শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগামাধ্যম ব্যবহার নিয়ে এবার কড়াকড়ি আরোপ করার উদ্যোগ নিয়েছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। বুধবার পাস হওয়া একটি প্রস্তাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, শিশুদের অনলাইন সুরক্ষা জোরদারের লক্ষ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে ন্যূনতম বয়সসীমা ১৬ বছর নির্ধারণ করা হোক।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বয়স-উপযুক্ত অনলাইন ব্যবহার নিশ্চিতে সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে একটি সমন্বিত নীতি গ্রহণ করতে হবে। ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া সামাজিকমাধ্যম ব্যবহার বন্ধ করা হোক।
খসড়ায় আরও বলা হয়, ইউরোপজুড়ে একটি ‘সুসংগত ডিজিটাল বয়সসীমা’ গড়ে তোলা প্রয়োজন। যার মাধ্যমে শিশুদের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ সীমিত করা হবে। একই খসড়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও-শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক সেবার জন্য পৃথকভাবে ১৩ বছরের ন্যূনতম বয়সসীমা নির্ধারণের কথাও বলা হয়েছে।
এসবের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, টিনএজারদের মধ্যে অতিরিক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ফলে যে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়ছে তা কমানো।
সেপ্টেম্বরে ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডের লেইন এক বক্তৃতায় বলেন, অস্ট্রেলিয়ার মতো ইউরোপও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম নিয়ন্ত্রণ করতে পারে কি না সে বিষয়ে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদমের সমালোচনা করে বলেন, শিশুদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে আসক্তি তৈরির উদ্দেশ্যে সামাজিক মাধ্যমগুলোর অ্যালগরিদম কাজ করছে। এসব প্ল্যাটফর্মের প্রভাব এতটাই প্রবল যে, অভিভাবকরা এসব ‘বৃহৎ প্রযুক্তির সুনামির বিরুদ্ধে’ নিজেদের অসহায় বোধ করছেন।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এই প্রস্তাব এখনও আইনত বাধ্যতামূলক করা হয়নি। এটি আনুষ্ঠানিক সুপারিশ হিসেবে সদস্যরাষ্ট্র ও কমিশনের কাছে দেওয়া হয়েছে। এখন ইউরোপীয় কমিশন ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দায়িত্ব নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রস্তাব গ্রহণ করা।
এর আগে, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপের কয়েকটি দেশও শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগামাধ্যম ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে।
