নিউজিল্যান্ডের বিপন্ন জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ২০৫০ সালের মধ্যে দেশজুড়ে বন্য বিড়াল সম্পূর্ণ নির্মূলের একটি সাহসী ও উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে দেশটির সরকার।
সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির সংরক্ষণমন্ত্রী তামা পোতাকা বন্য বিড়ালদের ‘নিষ্ঠুর ঘাতক’ হিসেবে অভিহিত করে তাদের সরকারি ‘প্রিডেটর-ফ্রি ২০৫০’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন।
মূলত নিউজিল্যান্ডের বিরল পাখি, বাদুড়, টিকটিকি এবং পতঙ্গদের বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে নিউজিল্যান্ডে প্রায় ২৫ লাখের বেশি বন্য বিড়াল রয়েছে, যারা মানুষের সাহায্য ছাড়াই প্রকৃতিতে টিকে থাকে এবং শিকারের মাধ্যমে বাস্তুসংস্থানের ভারসাম্য নষ্ট করছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ওহাকুন এলাকায় মাত্র এক সপ্তাহে ১০০টির বেশি দেশীয় ছোট লেজওয়ালা বাদুড় হত্যা এবং স্টুয়ার্ট দ্বীপে সাউদার্ন ডটারেল পাখির বিলুপ্তির দোরগোড়ায় পৌঁছে যাওয়ার পেছনে এই বিড়ালগুলো দায়ী।
এছাড়া এগুলো টক্সোপ্লাজমোসিস রোগ ছড়ায়, যা ডলফিন ও মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং গবাদি পশুর ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সংরক্ষণ বিভাগ জানিয়েছে, এই নির্মূল অভিযানে বিষাক্ত টোপ এবং বিশেষ ধরনের স্প্রে প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে এই অভিযান শুধুমাত্র বন্য বা মালিকহীন বিড়ালদের জন্য প্রযোজ্য; বাড়িতে পোষা বিড়াল এর আওতামুক্ত থাকবে।
তবুও বিড়াল মালিকদের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া এবং পোষা প্রাণীর মাইক্রোচিপিং ও প্রজনন নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যদিও অতীতে এই ধরনের প্রস্তাব নিয়ে প্রাণী অধিকার কর্মীদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনা ছিল, তবে সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে যে নিউজিল্যান্ডের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ বন্য বিড়াল নিয়ন্ত্রণের পক্ষে মত দিয়েছেন।
এই পরিকল্পনার আরও বিস্তারিত ও চূড়ান্ত কৌশল আগামী ২০২৬ সালের মার্চ মাসে প্রকাশ করার কথা রয়েছে।
