সিরিয়ার উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে সক্রিয় সশস্ত্র জোট সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির সংঘাত ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে। এছাড়া আইএসআইএল (আইএসআইএস) দমনে ব্যাপক ভূমিকার কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাহিনীটি বিশেষভাবে আলোচিত।
২০১৫ সালে আইএস দমনের লক্ষ্যে সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) গঠিত হয়। কুর্দি পিপলস প্রোটেকশন ইউনিটস (ওয়াইপিজি), আরব ও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর যোদ্ধাদের নিয়ে এই বাহিনী তৈরি করা হয়। বর্তমানে বাহিনীটির প্রধান কমান্ডার মাজলুম আবদি, যিনি মাজলুম কোবানি নামেও পরিচিত।
এসডিএফ হলো উত্তর ও পূর্ব সিরিয়ার স্বায়ত্তশাসিত প্রশাসন- অটোনোমাস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব নর্থ অ্যান্ড ইস্ট সিরিয়া (এএএনইএস) এর প্রধান সশস্ত্র বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোটের সহায়তায় এসডিএফ আইএসের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন যুদ্ধ চালায়। এর অংশ হিসেবে ২০১৭ সালে সিরিয়ার রাক্কা শহরে আইএসের শেষ শক্ত ঘাঁটি ধ্বংসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বাহিনীটি।
নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা ও মিত্রতা
বর্তমানে এসডিএফ সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে, যেখানে দেশের গুরুত্বপূর্ণ তেলক্ষেত্রও রয়েছে। আইএসের পুনরুত্থান ঠেকাতে এসব এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৯০০ সেনা মোতায়েন রয়েছে। এসডিএফের প্রধান আন্তর্জাতিক মিত্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকেই দেখা হয়।
এসডিএফকে ঘিরে বিতর্কও রয়েছে। তুরস্ক দাবি করে, বাহিনীটির সঙ্গে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে)-এর সম্পর্ক আছে। এই কারণে আঙ্কারা এসডিএফকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে বিবেচনা করে এবং সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক সামরিক অভিযান চালিয়েছে।
সিরীয় রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক
চলতি বছরের মার্চে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়, যার আওতায় ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ এসডিএফ বাহিনীকে সিরীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে একীভূত করার কথা বলা হয়। তবে এই একীভূতকরণ কীভাবে বাস্তবায়িত হবে- তা নিয়ে এখনও মতভেদ রয়ে গেছে।
