তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা আফগান কর্মকর্তাদের নতুন নৈতিকতা আইন প্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন, যা নারীদের অধিকার সংকুচিত করবে এবং কঠোর ইসলামিক সমাজের ধারণা প্রতিষ্ঠিত করবে।
গত মাসে তালেবান কর্তৃপক্ষ একটি নতুন আইন ঘোষণা করে, যার মধ্যে ৩৫টি ধারা রয়েছে। এ আইনে নারীদের বাড়ির বাইরে মুখ ও শরীর ‘আবৃত’ এবং কণ্ঠস্বর গোপন রাখার নিয়ম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নারীদের আচরণ ও জীবনযাপনকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে এই ধরনের অনেক পদক্ষেপ অনানুষ্ঠানিকভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। তবে এগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে আইন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে।
নতুন আইন অনুযায়ী, নারীদের জনসমক্ষে কণ্ঠস্বর তোলার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং ঘর থেকে বের হলে তাদের পুরো শরীর ও মুখ ঢেকে রাখতে হবে। তারা শুধু প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হতে পারবে।
এই আইনের অধীনে পুরুষদের আচরণ ও পোশাকও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়েছে। তাদের হাঁটুর ওপরে হাফপ্যান্ট পরা বা দাড়ি ছোট করে ছাঁটা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এ ছাড়াও আইনের অন্যান্য অংশে নামাজে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক এবং জীবিত প্রাণীর ছবি রাখা, সমকামিতা, প্রাণীর লড়াই, সরকারি ও অমুসলিমদের ছুটির দিনে গান বাজানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আইনটিতে শাস্তির বিভিন্ন স্তরও নির্ধারণ করা হয়েছে, যা নীতি পুলিশের মাধ্যমে প্রয়োগ করা হবে। এই শাস্তির মধ্যে মৌখিক সতর্কতা থেকে হুমকি, জরিমানা ও বিভিন্ন মেয়াদে আটক করা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আফগানিস্তানে জাতিসংঘ সহায়তা মিশনের প্রধান রোজা ওতুনবায়েভা এই আইনকে ‘আফগানিস্তানের ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগজনক দৃষ্টিভঙ্গি’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
তালেবান ক্ষমতা গ্রহণের পর আখুন্দজাদা শুক্রবার প্রথমবারের মতো উত্তর আফগানিস্তানের সফরে যান।
ফারিয়াবের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রধান শামসুল্লাহ মোহাম্মদী জানিয়েছেন, সর্বোচ্চ নেতা ফারিয়াবের সফরের আগে বাদগিস প্রদেশও পরিদর্শন করেছেন।
