ইবোলা ভাইরাস এখনো মানুষের কাছে ভয়ঙ্কর এক নাম। আক্রান্তদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই মারা যান এই রোগে। আর এবার সেই ভাইরাস নীরবে ছড়িয়ে পড়ছে আফ্রিকার ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআরসি), যেখানে গৃহযুদ্ধের মতো অস্থির পরিস্থিতির কারণে নিয়ন্ত্রণ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
সোমবার (১৮ মে) বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এবারের প্রাদুর্ভাবের বড় চিন্তার কারণ হলো—ভাইরাসের যে ধরনটি ছড়িয়েছে, সেটি বিরল ‘বুন্ডিবুগ্যো’ স্ট্রেন। এর বিরুদ্ধে কার্যকর ভ্যাকসিন বা চিকিৎসা তুলনামূলকভাবে কম। দেশের কোন কোন এলাকায় এটি ছড়িয়েছে, তা নিয়েও এখনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। এই অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ডিআর কঙ্গোতে ইবোলায় অন্তত ৮০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ২৫০ জন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের প্রাদুর্ভাবের গতি ২০১৪-১৬ সালের পশ্চিম আফ্রিকার সেই ভয়াবহ ইবোলা মহামারির কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। সেবার প্রায় ২৮ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন—ইবোলার ইতিহাসে যা সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব।
ডব্লিউএইচও জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ইতোমধ্যে এটিকে জনস্বাস্থ্যের জন্য আন্তর্জাতিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, করোনার মতো বিশ্বব্যাপী মহামারি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এখনই তৈরি হয়েছে। বিশ্বের জন্য এখনো ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম। ২০১৪-১৬ সালেও যুক্তরাজ্যে মাত্র তিনজন স্বাস্থ্যকর্মীর মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছিল।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যানডেমিক সায়েন্সেস ইনস্টিটিউটের গবেষক আমান্ডা রোজেক বলেন, ‘এই ঘোষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে পরিস্থিতি যথেষ্ট জটিল। ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক সমন্বয় ও সহায়তা জরুরি।’
প্রতিবেশী দেশগুলোতে ঝুঁকি
ডিআর কঙ্গোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্য ও যাতায়াতের কারণে উগান্ডা, দক্ষিণ সুদান ও রুয়ান্ডায় উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। উগান্ডায় ইতোমধ্যে দুজনের দেহে ইবোলা শনাক্ত হয়েছে, যাদের একজন মারা গেছেন।
ইবোলা সাধারণত ফল খাওয়া বাদুড় থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ায়। এরপর আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত, বমি, শরীরের তরল বা মৃতদেহের সংস্পর্শে এটি দ্রুত ছড়াতে থাকে। এমনকি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময়ও সতর্কতা না মানলে ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে।
বুন্ডিবুগ্যো স্ট্রেন
এবার যে ধরনের ইবোলা ছড়িয়েছে তার নাম ‘বুন্ডিবুগ্যো’। এটি তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত, কিন্তু প্রাদুর্ভাব ঘটাতে সক্ষম। এর আগে শুধু ২০০৭ ও ২০১২ সালে এই স্ট্রেনের প্রাদুর্ভাব দেখা গিয়েছিল, যাতে মৃত্যুর হার ছিল প্রায় ৩০ শতাংশ।
১৯৭৬ সালে প্রথম শনাক্ত হওয়ার পর থেকে কঙ্গোতে এ নিয়ে ১৬ বার ইবোলা প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। প্রতিবারই নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যাপক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে কর্তৃপক্ষকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই সতর্কতা অবলম্বন ও আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানো গেলে এবারের প্রাদুর্ভাবকে ছোট পরিসরে আটকে রাখা সম্ভব হতে পারে।
