ইরানের জব্দ সম্পদ ছাড়ের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি: ওয়াশিংটন

- Advertisements -
কাতারসহ বিভিন্ন দেশে জব্দ করে রাখা ইরানের সম্পদ মুক্ত করে দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। এর আগে শনিবার (১১ এপ্রিল) ইরানের এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, এসব সম্পদ ছাড়ে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে দেওয়া বক্তব্যে ওই দাবি সরাসরি নাকচ করেন। তিনি বলেন, রয়টার্সে প্রকাশিত খবরটি সঠিক নয় এবং এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
এর আগে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের ঘালিবাফ এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগে কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। তার মধ্যে রয়েছে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়া।
প্রথমে ইরানি পক্ষের এসব শর্তকে আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে দেখা গেলেও যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ অবস্থান সেই দাবিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। ফলে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে প্রস্তাবিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
কি বলা হয়েছে রয়টার্সের ওই প্রতিবেদন
কাতারসহ বিভিন্ন বিদেশি ব্যাংকে আটক থাকা ইরানের সম্পদ ছাড়তে যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হয়েছে শিরোনামে করা ওই প্রতিবেদনে রয়টার্স উল্লেখ করেছে, তারা এ তথ্য পেয়েছে ইরানের একটি উচ্চপর্যায়ের সূত্রে। সংবেদনশীলতার কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্র রয়টার্সকে জানায়, এই সম্পদ ছাড়ের বিষয়টি সরাসরি হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার সঙ্গে যুক্ত, যা আলোচনার একটি প্রধান ইস্যু হতে যাচ্ছে।

তবে ইরানের এই সম্পদের মোট পরিমাণ সম্পর্কে প্রথম সূত্রটি কিছু জানায়নি। অবশ্য অন্য একটি সূত্র বলেছে, কাতারে রাখা ইরানের প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়তে যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হয়েছে।

ওই সূত্র আরও উল্লেখ করেছে, ইসলামাবাদে চলমান আলোচনায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এটিকে ‘গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির ইঙ্গিত’ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে তেহরান।

প্রতিবেদনে এসব দাবি করা হলেও এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের এই অর্থ প্রথমে ২০১৮ সালে জব্দ করা হয়। ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বন্দি বিনিময় চুক্তির অংশ হিসেবে তা ছাড় দেওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন আবারও এই অর্থ স্থগিত করে।

সেসময় মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছিলেন, ইরান এই অর্থ ভবিষ্যতে ব্যবহার করতে পারবে না এবং প্রয়োজনে পুরো অর্থ আবারও পুরোপুরি জব্দ করার অধিকার ওয়াশিংটনের রয়েছে।

এই অর্থ এসেছে দক্ষিণ কোরিয়ায় ইরানের তেল বিক্রি থেকে। ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ইরানের ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যাংকগুলোতে এই অর্থ আটকে যায়। একই সঙ্গে তিনি বিশ্বশক্তিগুলোর সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক চুক্তিও বাতিল করেন।

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র–ইরান বন্দি বিনিময় চুক্তির অংশ হিসেবে এই অর্থ কাতারের ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়। এই চুক্তির আওতায় ইরানে আটক পাঁচজন মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দেওয়া হয়। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রে আটক পাঁচজন ইরানিকেও মুক্তি দেওয়া হয় এবং অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা করা হয়।

তখন যুক্তরাষ্ট্র জানায়, এই অর্থ কেবল মানবিক কাজে ব্যবহার করা যাবে। যেমন খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও কৃষিপণ্য কেনার জন্য এবং তা মার্কিন ট্রেজারির তত্ত্বাবধানে নির্দিষ্ট সরবরাহকারীদের মাধ্যমে ব্যয় করা হবে।

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/ms90
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন