সৌদি আরবের উট পালন খাতকে আরও সুশৃঙ্খল এবং আধুনিক করতে ‘উট পাসপোর্ট প্রকল্প’ চালু করেছে দেশটির সরকার।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে সৌদি পরিবেশ, পানি ও কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই খাতের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে এটি একটি গুণগত পদক্ষেপ।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মনসুর বিন হিলাল আল-মুশাইতি আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। মূলত উটের মালিকানা নথিভুক্ত করা, স্বাস্থ্যগত রেকর্ড রাখা এবং প্রজাতির বিশুদ্ধতা বজায় রাখাই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।
এই উট পাসপোর্টটি একটি পূর্ণাঙ্গ পরিচয়পত্র হিসেবে কাজ করবে, যেখানে প্রতিটি উটের জন্য একটি নির্দিষ্ট মাইক্রোচিপ নম্বর এবং পাসপোর্ট নম্বর থাকবে। এছাড়া এতে উটের নাম, জন্ম তারিখ, প্রজাতি, লিঙ্গ, গায়ের রঙ, জন্মস্থান এবং পাসপোর্ট ইস্যু করার সময় ও স্থানের বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ থাকবে।
সঠিকভাবে শনাক্ত করার সুবিধার্থে উটের দুই পাশের ছবিও এই পাসপোর্টে যুক্ত করা হবে। শুধু পরিচয়ই নয়, এতে একটি ডেডিকেটেড টিকাদান টেবিল থাকবে যেখানে পশু চিকিৎসকের নাম, স্বাক্ষর ও সিলসহ নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার তথ্য সংরক্ষিত থাকবে।
মন্ত্রণালয়ের মতে, এই ডিজিটাল এবং অফিসিয়াল নথিপত্র উট কেনাবেচা ও পরিবহণ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করবে এবং বাজার ব্যবস্থায় অনিয়ম রোধ করবে।
২০২৫ সালের জুন মাসের এক আদমশুমারি অনুযায়ী, সৌদি আরবে বর্তমানে উটের সংখ্যা প্রায় সোয়া ২২ লাখ। প্রায় ৮০ হাজার ব্যক্তি এই বিশাল সংখ্যক উটের মালিকানার সঙ্গে জড়িত। এই পাসপোর্টের মাধ্যমে এখন থেকে প্রতিটি উটের গতিবিধি এবং স্বাস্থ্যগত অবস্থা সরকারি ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকবে, যা অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় ক্ষেত্রেই এই খাতের মান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
