ইরানের সামরিক সক্ষমতা নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে দাবি করেছেন, তাকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এক সাম্প্রতিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অব্যাহত বিমান হামলা সত্ত্বেও ইরানের অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার এখনও সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে। এছাড়া তেহরানের অস্ত্রাগারে হাজার হাজার ড্রোন এবং উপকূলীয় প্রতিরক্ষায় ব্যবহৃত ক্রুজ মিসাইল মজুত রয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে দীর্ঘমেয়াদী হামলা চালানোর জন্য যথেষ্ট।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরান বর্তমানে তাদের কৌশল পরিবর্তন করে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে অগ্রসর হচ্ছে। তারা তাদের অবশিষ্ট লঞ্চারগুলো লুকিয়ে রাখছে এবং লক্ষ্যবস্তু নির্বাচনে অনেক বেশি হিসেবি হয়ে উঠেছে। যদিও হামলার কারণে বেশ কিছু লঞ্চার ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছে, তবে বড় একটি অংশ এখনও ব্যবহারের উপযোগী।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান তাদের ভূগর্ভস্থ টানেল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বিশাল অস্ত্রভাণ্ডার রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে। এটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সেই বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত, যেখানে তিনি দাবি করেছিলেন যে ইরানের সামরিক শক্তি ধূলিসাৎ হয়ে গেছে এবং যুদ্ধ জয়ের পথে।
এদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। শুক্রবার কুয়েতের একটি তেল শোধনাগারে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন হামলার তীব্রতা আরও বাড়ানোর হুমকি দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে জানিয়েছেন, ইরানের সেতু এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো তাদের পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু হতে যাচ্ছে। এরই মধ্যে সিরাজ শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু এবং তেহরানের একটি প্রাচীন চিকিৎসা গবেষণা কেন্দ্রে হামলার খবর পাওয়া গেছে। যাতে বেশ কিছু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
