কানাডার উত্তর মেরু অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ওই অঞ্চলের সুরক্ষায় কানাডার বর্তমান সক্ষমতা নিয়ে ট্রাম্প সন্তুষ্ট নন। তিনি মনে করেন অটোয়া তাদের উত্তর সীমান্ত রক্ষায় যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
গ্রিনল্যান্ড দখলের চেষ্টার মতো এখানে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ না চাইলেও ট্রাম্পের এই মনোভাবকে জাতীয় নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে প্রতিবেশী দেশের ওপর চাপ তৈরির কৌশল হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প তার সহযোগীদের সাথে ব্যক্তিগত আলোচনায় কানাডার উত্তর অংশে রাশিয়া ও চীনের সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ নিয়ে বারবার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
ট্রাম্পের মতে, প্রতিরক্ষা খাতে কানাডার ব্যয় বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। মার্কিন প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য হলো পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব সুসংহত করা আর কানাডার উত্তর সীমান্ত সুরক্ষিত রাখা সেই পরিকল্পনারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, গ্রিনল্যান্ডের মতো কানাডার ভূখণ্ড কেনা বা সেখানে সরাসরি মার্কিন সেনা মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই। পরিবর্তে দ্বিপাক্ষিক সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, যৌথ টহল এবং উন্নত সতর্কীকরণ ব্যবস্থা চালুর জন্য অটোয়াকে ক্রমাগত চাপ দিচ্ছে ওয়াশিংটন।
এদিকে বেইজিং ও মস্কো ট্রাম্পের এই অভিযোগকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে। চীন একে আর্কটিক অঞ্চলে মার্কিন আধিপত্য বিস্তারের অজুহাত হিসেবে দেখছে। রাশিয়া এই অঞ্চলকে সামরিকীকরণের পরিবর্তে শান্তিপূর্ণ সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
অন্যদিকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ এবং গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক তৎপরতায় আগে থেকেই অস্বস্তিতে ছিল কানাডা। দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি সম্প্রতি বেইজিং সফরকালে ওয়াশিংটনের সাথে বর্তমান জটিল সম্পর্কের ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে চীনের সাথে লেনদেন এখন অনেক বেশি অনুমানযোগ্য।
