ইরানের সামরিক বাহিনী ওমান উপসাগরে ভাসমান অস্ত্রাগার হিসেবে ব্যবহৃত একটি জাহাজ জব্দ করেছে বলেদাবি করেছে সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ভ্যানগার্ড। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, জাহাজটিকে ইরানের আঞ্চলিক জলসীমার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।
মেরিন ট্রাফিকের শিপ-ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, জাহাজটিকে হন্ডুরাসের পতকাবাহী ‘হুই চুয়ান’ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। জাহাজটি সর্বশেষ সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহর উত্তর-পূর্বে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল। জাহাজটি নিরাপত্তা কোম্পানিগুলোর জন্য অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংরক্ষণে ব্যবহৃত একটি ভাসমান অস্ত্রাগার হিসেবে পরিচালিত হচ্ছিল বলে এর অপারেটররা ভ্যানগার্ডকে জানিয়েছে। তবে জাহাজে কী ছিল বা কারা ব্যবহার করছিল তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
এদিকে পরিবেদনে জানান হয়, একই সময়ে ওমান উপকূলে একটি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। ‘হাজি আলি’ নামের ওই জাহাজটি সন্দেহভাজন বিস্ফোরণের পর ডুবে যায়, যা ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জাহাজটিতে থাকা ১৪ জন ক্রুকে ওমান কোস্ট গার্ড উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘটনাটে গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছে।
শিপ-ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি ৬ মে সোমালিয়ার বারবেরা বন্দর থেকে রওনা দিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহর দিকে যাচ্ছিল। এতে গবাদিপশু পরিবহন করা হচ্ছিল এবং পথে আগুন লাগার পর ক্রু সদস্যরা জাহাজ ত্যাগ করেন বলে জানা গেছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বেইজিংয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ বিষয়টি আলোচনায় আসে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, চীন হরমুজ প্রণালীর সামরিকীকরণের বিরোধিতা করেছে এবং উভয় পক্ষই সম্মত হয়েছে যে, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রণালীটি উন্মুক্ত রাখা জরুরি।
