পোল্যান্ডের পার্লামেন্টে একটি নজিরবিহীন ও বিতর্কিত ঘটনার জন্ম দিয়েছেন দেশটির ডানপন্থি সংসদ সদস্য কনরাড বার্কোভিচ।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) পার্লামেন্ট অধিবেশন চলাকালীন তিনি একটি কাগজে আঁকা ইসরায়েলি পতাকায় থাকা ইহুদি ধর্মের পবিত্র ‘স্টার অব ডেভিড’ চিহ্নের পরিবর্তে নাৎসিদের প্রতীক ‘স্বস্তিকা’ বসিয়ে তা প্রদর্শন করেন। এই ঘটনার মাধ্যমে তিনি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিবাদ জানান এবং দেশটিকে ‘নতুন থার্ড এম্পায়ার’ হিসেবে অভিহিত করেন।
বার্কোভিচের এই কর্মকাণ্ড মুহূর্তের মধ্যেই পার্লামেন্টে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি করে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও অনলাইন নিউজ ডেস্কের প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
বার্কোভিচ তার বক্তব্যে দাবি করেন, গাজায় শিশু মৃত্যুর জন্য সরাসরি ইসরায়েল দায়ী। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের তুলনায় গাজায় শিশু মৃত্যুর হার ‘অনেক বেশি’।
নাৎসি নেতা এডলফ হিটলারের বাহিনীর ব্যবহৃত এই বিতর্কিত প্রতীকটি প্রদর্শন করে তিনি মূলত ইসরায়েলি আক্রমণাত্মক নীতির সমালোচনা করতে চেয়েছিলেন। তবে পোল্যান্ডের মতো একটি দেশে, যেখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসিরা ব্যাপক গণহত্যা চালিয়েছিল, সেখানে এমন প্রতীকের ব্যবহারকে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও অপমানজনক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ইহুদি ধর্মের জাতীয় ঐক্য ও পুনর্জন্মের প্রতীক হিসেবে পরিচিত ‘স্টার অব ডেভিড’-কে বিকৃত করায় আন্তর্জাতিক মহলেও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
পোলিশ পার্লামেন্টের স্পিকার ভলোদিমিয়ের চেজারজাস্টি বার্কোভিচের এই কাজকে সংসদের মর্যাদার ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ঘোষণা দেন, নাৎসি প্রতীক প্রদর্শন এবং অন্য দেশের পতাকাকে অবমাননা করার অপরাধে ওই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে কঠোর আর্থিক জরিমানা ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, পোল্যান্ডের আইন অনুযায়ী জনসমক্ষে নাৎসি প্রতীক ব্যবহার করা এবং বিদেশি রাষ্ট্রের পতাকাকে ছোট করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। পার্লামেন্টের অন্যান্য সদস্যরাও এই ঘটনাকে লজ্জাজনক বলে অভিহিত করেছেন এবং দাবি করেছেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও এমন ঘৃণ্য পথ বেছে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এদিকে পোল্যান্ডে নিযুক্ত ইসরায়েল দূতাবাস এই ঘটনাকে ‘লজ্জাজনক’ বলে বর্ণনা করেছে এবং পোলিশ কর্তৃপক্ষের কাছে যথাযথ ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। ঘটনার একটি ভিডিও ক্লিপ পরবর্তীতে বার্কোভিচের রাজনৈতিক দল ‘কনফেডারেশন’-এর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা বিশ্বজুড়ে আরও বিতর্কের জন্ম দেয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পোল্যান্ডের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করতে পারে। অতীতেও কনফেডারেশন দলের সদস্যরা এই ধরনের উসকানিমূলক ও বিতর্কিত আচরণের জন্য পরিচিত ছিলেন, যার ধারাবাহিকতা এবার পার্লামেন্টের ভেতরেও প্রতিফলিত হলো।
