ইসরায়েল ও লেবাননের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে সম্ভাব্য সরাসরি আলোচনার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা দাবি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার রাতে ট্রাম্প এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ ৩৪ বছর পর আজ বৃহস্পতিবার আলোচনার কথা জানালেও, লেবাননের সরকারি সূত্রগুলো এমন কোনো তথ্যের কথা অস্বীকার করেছে।
লেবাননের একটি উচ্চপদস্থ সরকারি সূত্র জানিয়েছে, দুই দেশের নেতাদের মধ্যে সম্ভাব্য কোনো ফোনালাপ কিংবা ওয়াশিংটনে দায়িত্বরত রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে দ্বিতীয় দফা বৈঠকের ব্যাপারে তাদের কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প তার পোস্টে দুই দেশের মধ্যে ‘একটু স্বস্তির নিশ্বাস’ ফেলার যে সুযোগের কথা বলেছেন, তা কার্যত একটি যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত হতে পারে। তবে লেবানন সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা না পাওয়ায় ট্রাম্পের এই বার্তার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মূলত মার্কিন প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই লেবানন ফ্রন্টকে ইরান ফ্রন্ট থেকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ওয়াশিংটনে গত কয়েক দিনে অনুষ্ঠিত হওয়া বৈঠকগুলোকে হিজবুল্লাহ ও ইরানের প্রভাব খর্ব করার একটি কৌশলগত প্রচেষ্টা এবং নিছক ‘ফটোসেশন’ হিসেবেই দেখছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।
বর্তমানে লেবানন ও ইসরায়েল সীমান্তে সংঘাত চললেও ওয়াশিংটন চাইছে একটি কূটনৈতিক মোড়ক তৈরি করতে। কিন্তু খোদ লেবানন সরকারই যখন এই শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনার বিষয়ে অবগত নয়, তখন ট্রাম্পের এই দাবি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন কোনো নাটকীয়তার অংশ কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
শেষ পর্যন্ত আজ কোনো সরাসরি যোগাযোগ হয় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
