যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাসভবন মার-এ-লাগোর সুরক্ষিত সীমানায় প্রবেশ করায় এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল রবিবার এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে সিক্রেট সার্ভিস।
নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, গুলিতে নিহত অস্টিন টি মার্টিন সম্পর্কে এখনও তদন্ত চলছে। তবে ২১ বছর বয়সি এই যুবক ক্যারোলিনার ক্যামেরনের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। তার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, মার্টিন দীর্ঘদিন নিখোঁজ ছিলেন এবং খোঁজ পেতে স্থানীয় পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল।
নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার সময় মার্টিন সুরক্ষিত এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করলে সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা প্রথমে তাকে থামার নির্দেশ দেন। কিন্তু তিনি আদেশ অমান্য করে এগোতে থাকায় নিরাপত্তা বাহিনী তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে। পরে মার্টিন নিহত হওয়ার পর তার কাছ থেকে একটি শটগান ও জ্বালানির একটি পাত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
পাম বিচ কাউন্টি শেরিফ রিক ব্র্যাডশ বলেছেন, ‘মার্টিন শটগান তাক করে সামনে এগোতে শুরু করেলে সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্টরা গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছেন।’
ঘটনার সময় নিরাপত্তা সদস্যদের শরীরে ‘বডি ক্যাম’ লাগানো ছিল। পুরো ঘটনার ভিডিও রেকর্ড হয়েছে। তবে মার্টিনের হাতে বন্দুকটি সম্পূর্ণ লোড ছিল কি না এখনও তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এফবিআই ইতোমধ্যেই বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং বন্দুকটি কোথা থেকে কেনা হয়েছে তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মার্টিন আগে কোনো অপরাধে জড়িত ছিলেন না এবং ২০২৩ সালে ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের ওপর বন্দুক হামলার সঙ্গে তার কোনো যোগসূত্র নেই।
এদিকে জানা গেছে, ওই ঘটনার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্লোরিডার বাসভবনে ছিলেন না। সে সময় তিনি ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থান করছিলেন।
নিরাপত্তা সংস্থা ও ফেডারেল তদন্তকারীরা মার্টিনের উদ্দেশ্য ও তার কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষাপট যাচাই করছে। মার্টিনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়েছে। স্থানীয় পুলিশও তদন্তে সহযোগিতা করছে।
এ ঘটনার পর ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো এবং আশেপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। ফেডারেল ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জনগণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
