ব্রিটিশ আমলে অপরিকল্পিত বিকাশ এবং পরবর্তী দশক গুলোর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থবিরতার কারণে একসময় কলকাতা শহরকে ‘মৃতপ্রায় শহর’ অর্থাৎ ডাস্টবিনের শহর বলা হতো। তবে গত কয়েক বছর ধরে কলকাতা শহরের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন, আধুনিকীকরণ, পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ এবং ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনের ফলেই শহরটি তার পুরোনোরূপ ঝেড়ে ফেলে তিলোত্তমা হয়ে উঠেছে।
বিগত বেশ কয়েক দশক যাবত কলকাতা দূষণ নগরী হিসেবে একপ্রকার ভারত সরকারের কাছে দুয়োরানী হিসাবে উপেক্ষিত হয়ে এসেছে। ডাস্টবিনের শহর থেকে বর্তমানে ভারতের যেসব মেট্রোপলিটন শহর রয়েছে তার মধ্যে তিল্লোত্তমা কলকাতা শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা পেয়েছে। কলকাতা আজ সারাদেশের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। কলকাতা যাকে ‘সিটি অফ জয়’ এর রূপান্তরের মূল কারণগুলো হলো, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং সবুজায়ন।
কলকাতা কর্পোরেশনের উদ্যোগে এক সময়ে উন্মুক্ত ডাস্টবিন ও ময়লার স্তুপ অপসারণ করে শহরটিকে ১০০ শতাংশ ডোর টু ডোর বর্জ্য সংগ্রহের আওতায় আনা হয়েছে। কলকাতা শহরের প্রত্যেক অলিগলিতে সকাল হলে পৌরসভার কর্মীরা বাঁশি বাজিয়ে ময়লা সংগ্ৰহ করতে যায় যেন ময়লা শহরের রাজপথে পড়ে না থাকে। এছাড়া শহরের জলাভূমি ও খালগুলো পরিষ্কার করে দূষণ কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
পাশাপাশি পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে শহরের বিভিন্ন গলি অথবা মোড়ে সবুজায়ন করা, শহরের পার্ক গুলোকে আধুনিকীকরণ করা থেকে শুরু করে শহরটিকে আলোর রোশনায় ভরিয়ে রূপ বদলে দিয়েছে। গঙ্গা নদীর দূষণের মাত্রা কমিয়ে ঘাটগুলোতে আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে। রাজারহাট নিউটাউনের মতো স্যাটেলাইট টাউনশিপ গড়ে উঠেছে। কলকাতা শহরে চাপ কমায় দূষণও কমেছে।
এমনিতেই প্রতিটি শহরাঞ্চলে পর্যাপ্ত পরিমাণ গাছ থাকা খুবই আবশ্যক। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের পক্ষ থেকে দেওয়া গাইডলাইন অনুযায়ী শহরের বিভিন্ন স্থানে সবুজায়ন করতে বেশি করে গাছ লাগানো হয়েছে। পরিবেশ সহায়ক হবার আপ্রাণ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ফলে শহরটি এক প্রাণবন্ত রূপ ধরে রেখেছে।
কলকাতার রাস্তায় যানবাহনের ব্যবহারে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। এতেই পিএম ১০ দূষণ রোধ সম্ভব হয়েছে। প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কলকাতা পৌরসভা থেকে বিভিন্ন জায়গায় সচেতনামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। প্লাস্টিক ব্যাগের বদলে পরিবেশ বান্ধব ব্যাগ ব্যবহারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
