পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে কারাবন্দি তেহরিক ই ইনসাফ পাকিস্তানের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের যেকোনো সমঝোতার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছেন তার বোন আলীমা খান।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) আদিয়ালা জেলের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে জানান, কারো যদি আলোচনার সাহস থাকে তবে তারা যেন সরাসরি তার ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলে।
আলীমা স্পষ্ট করে জানান, বর্তমানে কোনো পর্যায়ের আলোচনা বা ‘ডিল’ হচ্ছে না। তিনি দাবি করেন, ইমরান খান অত্যন্ত রাগান্বিত এবং তাকে প্রায় তিন বছর ধরে নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘একজনকে দীর্ঘ সময় বন্দি রেখে তারপর সমঝোতার প্রস্তাব দেওয়ার যৌক্তিকতা কী? যদি কেউ কথা বলতে চায়, তবে সরাসরি পিটিআই প্রতিষ্ঠাতার সঙ্গে কথা বলুন।’
এছাড়া ইমরান খানের ডান চোখের চিকিৎসা নিয়ে আলীমা খান ও তার বোন নোরিন নিয়াজি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সোমবার (২৩ মার্চ) ইসলামাবাদে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস-এ ইমরান খানের চোখে তৃতীয়বারের মতো অ্যান্টি-ভিইজিএফ ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে আলীমা অভিযোগ করেন, পরিবারের সদস্যদের না জানিয়েই তাকে জেল থেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তারা সামাজিক মাধ্যম ও টিভির মাধ্যমে এই খবর জানতে পেরেছেন।
আলীমা দাবি করেন, ইমরান খানকে সমঝোতায় বাধ্য করতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে তার দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত দুই চিকিৎসককে ইমরান খানের কাছে যেতে দেওয়া হচ্ছে না এবং শাফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের আবেদনও আদালত নাকচ করে দিয়েছে।
ঈদুল ফিতরের পর প্রথম মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) হওয়া সত্ত্বেও আলীমা ও নোরিন নিয়াজিকে ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। তারা একে মৌলিক মানবাধিকার এবং সাংবিধানিক অধিকারের ‘লজ্জাজনক লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
নোরিন নিয়াজি বলেন, ‘দেশে কোনো আইন নেই। যারা চুরি করেছে তারা ‘ডিল’ করে বিদেশে গেছে, কিন্তু ইমরান খান কোনো অপরাধ না করেও জেলে আছেন।’
এদিকে পাকিস্তানের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর মুক্তির দাবিতে পিটিআই-এর ইসলামাবাদ চ্যাপ্টার একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ পেশ করেছে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ঈদের পর ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে দেশব্যাপী একটি সমন্বিত ও শক্তিশালী আন্দোলন শুরু করা হবে। আন্দোলনের অংশ হিসেবে দলের ভেতরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সক্রিয় করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
