English

27.4 C
Dhaka
শনিবার, আগস্ট ৩০, ২০২৫
- Advertisement -

পর্নসাইটে নিজের ছবি দেখে বেজায় ক্ষেপলেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী

- Advertisements -

একটি পর্নসাইটে নিজেরসহ অন্য নারীদের ছবি পাওয়ার ঘটনায় বেজায় ক্ষেপেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। বিষয়টিকে ‘জঘন্য’আখ্যা দিয়ে পর্নসাইটটি পরিচালনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের দ্রুত শনাক্ত ও শাস্তি নিশ্চিতের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

‘ফিকা’ নামে পরিচিত ওই ইতালীয় সাইটে প্রকাশিত ছবিগুলো বিভিন্ন নারীর ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট কিংবা প্রকাশ্য উৎস থেকে সংগ্রহ করা। পরে সেগুলোকে পর্নোগ্রাফি কায়দায় সম্পাদনা করা হয়। ছবির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল অশ্লীল ও নারী বিদ্বেষী মন্তব্য।

সাইটটির ৭ লাখেরও বেশি সাবস্ক্রাইবার রয়েছে। এটির ‘ভিআইপি সেকশনে’ ইতালির শীর্ষস্থানীয় বহু নারী নেত্রী, সেলিব্রিটি ও প্রভাবশালী নারীর ছবি বিকৃত করে রাখা হয়েছে।

দেখা গেছে, ছবিগুলো শুধু রাজনৈতিক সমাবেশ বা টেলিভিশন সাক্ষাৎকার থেকে নয়, ছুটির সময় বিকিনিতে তোলা ব্যক্তিগত মুহূর্ত থেকেও নেওয়া হয়েছে। এগুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে যৌন ভঙ্গি বা দেহের নির্দিষ্ট অঙ্গের ওপর জোর দিয়ে সম্পাদনা করা হয়।

ঘটনার পর দেশটির বামপন্থি ডেমোক্রেটিক পার্টি (পিডি) আইনি অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। এর আগে প্রায় দুই দশক ধরে ২০০৫ সালে চালু হওয়া সাইটটি কোনো বাধা ছাড়াই সক্রিয় ছিল।

মেলোনির বোন আরিয়ান্নাও ওই সাইটের লক্ষ্যবস্তু হন। তবে প্রধানমন্ত্রী এ নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। অন্যদিকে, অভিনেত্রী ও পরিচালক পাওলা কোরতেললেসি ও জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সার চিয়ারা ফেরাগনির ছবিও ওই সাইটে ব্যবহৃত হয়।

অভিযুক্ত সাইটের শিকার হয়েছেন ইতালির ডানপন্থি রাজনীতিকরাও। তাদের মধ্যে রয়েছেন স্বৈরশাসক বেনিতো মুসোলিনির নাতনি আলেসান্দ্রা মুসোলিনি ও দেশটির পর্যটনমন্ত্রী দানিয়েলা সান্তাঙ্কে।

তবে এ বিষয়ে প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করেন পিডি রাজনীতিবিদ ভ্যালেরিয়া কাম্পানিয়া। এরপর আরও অনেক নারী রাজনীতিক মুখ খুলতে শুরু করেন। এরই মধ্যে ওয়েবসাইটটি বন্ধের দাবিতে অনলাইনে এক লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি স্বাক্ষর সংগ্রহ হয়েছে।

কাম্পানিয়া ফেসবুকে লিখেছেন, আমি ঘৃণা, ক্ষোভ ও হতাশা অনুভব করেছি। শুধু আমার নয়, সবার জীবনের অংশ এই লড়াই। আমাদের স্বাধীন ও মর্যাদাপূর্ণভাবে বাঁচার অধিকার রয়েছে।

আরেক রাজনীতিবিদ আলেসিয়া মোরানি ইনস্টাগ্রামে লেখেন, আমার ছবির নিচে যে মন্তব্যগুলো লেখা হয়েছে, তা নারীর মর্যাদার ওপর আঘাত। এটা শুধু আমাকে নয়, আরও অনেক নারীকে অপমানিত করছে। এসব সাইট বন্ধ করা আবশ্যক। যথেষ্ট হয়েছে।

২০১৯ সালের মিলান বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ইতালির প্রতি পাঁচজন নারীর একজন জীবনের কোনো না কোনো সময়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে ব্যক্তিগত ছবি ছড়িয়ে পড়ার ভুক্তভোগী হয়েছেন। গত জুলাইয়ে দেশটির সিনেট ‘ফেমিসাইড’-কে প্রথমবারের মতো আইনি সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান করে। পাশাপাশি যৌন সহিংসতা, স্টকিং ও প্রতিশোধমূলক পর্নের মতো অপরাধের শাস্তি বাড়ানো হয়।

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/4csh
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন