অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট ব্যারিয়ার রিফে সন্ধান মিলেছে বিশ্বের বৃহত্তম একক প্রবাল কলোনির। বিস্ময়কর এই আবিষ্কারটি করেছেন এক মা ও মেয়ে, যারা পেশাদার বিজ্ঞানীর বাইরেও সমুদ্র সংরক্ষণে নাগরিক বিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করেন।
প্রবাল প্রাচীর সংরক্ষণ সংস্থা ‘সিটিজেনস অব দ্য রিফ’ গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এই অভূতপূর্ব সাফল্যের কথা জানিয়েছে। প্রায় ৩,৯৭৩ বর্গমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই প্রবাল কলোনিটি দৈর্ঘ্যে একটি ফুটবল মাঠের সমান, যা এখন পর্যন্ত নথিবদ্ধ হওয়া বিশ্বের বৃহত্তম প্রবাল কাঠামো হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
সোফি কালকোস্কি-পোপ এবং তার মা জ্যান পোপ গত বছরের শেষের দিকে এই বিশালাকার প্রবালটির সন্ধান পান। জ্যান পোপ একজন অভিজ্ঞ ডুবুরি ও আন্ডারওয়াটার ফটোগ্রাফার। তিনি প্রথমে সমুদ্রের গভীরে বিশেষ কিছু লক্ষ করেন এবং পরবর্তীতে মেয়ে সোফিকে নিয়ে সেখানে পরিমাপ করতে যান।
সোফি জানান, প্রবালটির এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে সাঁতরে যেতেই তার প্রায় তিন মিনিট সময় লেগেছে। জলের উপরিভাগ থেকে নেওয়া উচ্চ-প্রযুক্তির ছবি এবং ডুবুরিদের সরাসরি পরিমাপের মাধ্যমে এই ‘পাভোনা ক্লাভাস’ প্রজাতির প্রবালের আকার নিশ্চিত করা হয়েছে। গবেষকরা এই তথ্য ব্যবহার করে প্রবালটির একটি ত্রিমাত্রিক মডেল তৈরি করেছেন, যা ভবিষ্যতে এর পরিবর্তনের ওপর নজর রাখতে সাহায্য করবে।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, জে-আকৃতির এই প্রবাল কাঠামোটি যেখানে অবস্থিত, সেখানে জোয়ারের তীব্র স্রোত থাকলেও ঘূর্ণিঝড়ের প্রকোপ তুলনামূলক কম। এই অনুকূল পরিবেশই হয়তো প্রবালটিকে এত বিশাল আকারে বেড়ে উঠতে সাহায্য করেছে। তবে প্রবালটির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এর সঠিক অবস্থান গোপন রাখা হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রেট ব্যারিয়ার রিফসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের প্রবাল প্রাচীরগুলো যখন ধ্বংসের মুখে, তখন এমন একটি বিশাল ও সুস্থ প্রবাল কলোনির অস্তিত্ব বিজ্ঞানীদের আশার আলো দেখাচ্ছে।
ইউনিভার্সিটি অব ডার্বির অধ্যাপক মাইকেল সুইট এই আবিষ্কারকে বিস্ময়কর বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, যখন দূষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রবালরা অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন এই ধরনের আবিষ্কার প্রমাণ করে যে প্রকৃতি এখনো প্রতিকূলতাকে জয় করার ক্ষমতা রাখে। ‘গ্রেট রিফ সেনসাস’-এর অংশ হিসেবে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে পরিচালিত এই গবেষণা সমুদ্র সংরক্ষণে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
