নিজের ব্যক্তিগত জীবন থেকে ভালোবাসার গল্প হারিয়ে গিয়েছিল দুই দশক আগেই। অবশেষে ৬০ বছর বয়সে এসে জাপানের এক ঐতিহ্যবাহী নৃত্যশিল্পী খুঁজে পেলেন মনের মানুষকে। তবে তার জীবনসঙ্গী বয়সে তার চেয়ে ৩৪ বছরের ছোট এবং সম্পর্কে তারই একনিষ্ঠ শিষ্য।
সম্প্রতি জাপানের জনপ্রিয় টেলিভিশন শো ‘ওয়েলকাম, নিউলিওয়েডস!’-এ এই দম্পতি হাজির হয়েছিলেন। তবে নিজেদের আসল পরিচয় তারা জনসমক্ষে প্রকাশ করতে চাননি।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের বরাতে শনিবার এ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়াভিত্তিক গণমাধ্যম দ্য স্টার।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জাপানের পূর্বাঞ্চলীয় ইবারাকি অঞ্চলের বাসিন্দা ওই নারী একজন অভিজ্ঞ নৃত্যশিল্পী। শৈশব থেকেই তিনি জাপানি ঐতিহ্যবাহী নাচে নিবেদিত এবং বর্তমানে ‘সুবেকি’ নামের একটি স্থানীয় থিয়েটার দলে শিক্ষকতা করছেন। এই দলটি মূলত ‘তাইশু এনগেকি’ পরিবেশন করে থাকে—যা ঐতিহ্যবাহী নাচ, কাবুকি এবং আবেগঘন গল্পের একটি মিশেল। ৪০ বছর আগে ওই নারীর মা এ নাট্যদলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এক সময় জাপানের বিভিন্ন উষ্ণ প্রস্রবণ এলাকায় ঘুরে ঘুরে পারফর্ম করা এ দলে প্রায় ৫০ জন সদস্য ছিল।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনবার বিবাহবিচ্ছেদের পর ওই নারী ধরে নিয়েছিলেন তার জীবনে আর কোনোদিন ভালোবাসা আসবে না। দীর্ঘ ২০ বছর তিনি সঙ্গীহীন ছিলেন। কিন্তু তার জীবনে নতুন মোড় আসে ২৬ বছর বয়সী এক তরুণের আগমনে।
পেশায় অফিসকর্মী ওই তরুণ ছোটবেলা থেকেই ‘তাইশু এনগেকি’র ভক্ত ছিলেন। কিন্তু পরিবারের আপত্তির কারণে এর আগে অভিনয়ের পথে পা বাড়াতে পারেননি। সুযোগ মিলল যখন একদিন তিনি ‘সুবেকি’ দলের সাইনবোর্ড দেখলেন। দেরি না করে তিনি থিয়েটারে গিয়ে সেই দলে যোগ দেন।
থিয়েটারে গিয়ে প্রথমে ওই নারীর মায়ের সঙ্গে তার দেখা হয়। তবে স্বস্তি পান যখন ওই নারী নিজে সেখানে প্রবেশ করেন। প্রথম দেখাতেই তরুণটি ওই নারীর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হন, আর নারীটিও তরুণকে দেখে বেশ সুদর্শন ও প্রাণবন্ত মনে করেন। দ্রুতই তাদের মধ্যে ফোন নাম্বার আদান-প্রদান হয় এবং শুরু হয় গুরু-শিষ্যের শৈল্পিক যাত্রা।
দলে যোগ দেওয়ার মাত্র তিন দিনের মাথায় ওই নারী নিজেই উদ্যোগ নেন। তিনি নিজের একাকিত্বের কথা জানিয়ে তরুণের প্রতি ভালো লাগার কথা প্রকাশ করেন। নাটকের মঞ্চে যখন তারা একে অপরের প্রেমিকের ভূমিকায় অভিনয় শুরু করেন, তখন তাদের সেই পর্দার প্রেম বাস্তবে রূপ নিতে থাকে।
নাচের মুদ্রায় ওই নারীকে দেখে তরুণটি এতটাই মোহিত হন যে, পরে তিনি জানান—প্রথমবার হাত ধরার মুহূর্তেই তিনি বুঝেছিলেন, এই নারীই তার জন্য বিধাতার সেরা উপহার। একটি আতশবাজি উৎসবের রাতে যুবকটি প্রেম নিবেদন করে বলেন, ‘বাকিটা জীবন আমি তোমার খেয়াল রাখব। এমনকি একদিন যদি তোমার ডায়াপার পালটে দেওয়ার প্রয়োজন হয়, আমি সেই সেবাও করব।’
তবে তাদের এ সম্পর্ক সহজ ছিল না। ওই নারী তরুণের মায়ের চেয়েও ৯ বছরের বড়। স্বাভাবিকভাবেই তরুণের পরিবার শুরুতে এ বিয়ে মেনে নিতে চায়নি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের ভালোবাসা দেখে পরিবারের আপত্তি দূর হয়। গত বছরের ডিসেম্বরে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের নিবন্ধন করেন।
বর্তমানে তরুণের মা তার পুত্রবধূকে এক ‘নির্ভরযোগ্য বড় বোন’ হিসেবে দেখেন। আর তরুণের ছোট বোনরা তাদের জীবনের নানা খুঁটিনাটি ও প্রেমের বিষয়ে এ নারীকে ‘দ্বিতীয় মা’ হিসেবে বিশ্বাস করেন।
জাপানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের এ প্রেমকাহিনি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। একজন নেটিজেন মন্তব্য করেছেন, ‘বয়স এখানে কোনো বিষয়ই নয়, এটি আমার দেখা সবচেয়ে পবিত্র ভালোবাসার একটি’। অন্য একজন লিখেছেন, ‘তাকে দেখে মোটেও ৬০ বছর বয়সী মনে হয় না। মঞ্চে আজীবন পারফর্ম করার জাদুই তাকে এমন দীপ্তিময় করে রেখেছে’।
