অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে হাম্ব্যাক প্রজাতির তিমির এ বিরল ও রহস্যময় আচরণ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। পানির ভেতরে ঘূর্ণায়মান ভঙ্গিতে ‘নাচতে’ নাচতে মুখ বড় করে খুলে রাখা—এই অস্বাভাবিক আচরণকে গবেষকরা বলছেন ‘গেপিং’ বা মুখ বিস্তার প্রদর্শনী। এটি খাবার ধরার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, বরং সামাজিক যোগাযোগ বা অন্য কোনো আচরণগত সংকেত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি তিমি তার পাখনা নেড়ে ঘুরছে—যেন পানির নিচে পিরোয়েট করছে—এবং তার বিশাল চোয়াল খোলা অবস্থায় রয়েছে। আশপাশে অন্য তিমিও ছিল, যা ইঙ্গিত দেয় এটি এক ধরনের সামাজিক প্রদর্শনী হতে পারে।
ম্যাককোয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সংগ্রহ করা ৬৬টি হাম্ব্যাক তিমির ভিডিও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই ‘গেপিং’ আচরণ নিয়মিত খাদ্যগ্রহণের সময়কার আচরণ থেকে ভিন্ন। সাধারণত তিমি দ্রুতগতিতে উঠে এসে মুখ বড় করে খুলে পানি ও শিকার গিলে ফেলে, যাকে ‘লাঞ্জ ফিডিং’ বলা হয়। কিন্তু এই নতুন আচরণে সেই গতি, শিকার ধরা বা গলার প্রসারণের লক্ষণ ছিল না। বরং তিমির মুখ স্থিরভাবে খোলা থাকে—কখনো পানির ওপরে, কখনো নিচে।
গবেষক ভেনেসা পিরোটা বলেন, আমরা ভেবেছিলাম হাম্ব্যাক তিমি সম্পর্কে অনেক কিছু জানি, কিন্তু এখনো নতুন আচরণ সামনে আসছে। তিনি জানান, নাগরিক বিজ্ঞানী বা সাধারণ মানুষের ধারণ করা ভিডিওই এই গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, এই আচরণ হতে পারে সামাজিক সংকেত, খেলাধুলা, আশপাশের পরিবেশ বা ভাসমান বস্তুর সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া, কিংবা বাচ্চা তিমির খাবারের আগে মুখের পেশি প্রসারিত করার উপায়। বিশেষ করে অভিবাসনের সময় এই আচরণ বেশি দেখা যাওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, এটি খাবারের জন্য নয়।
মে মাসে হাম্ব্যাক তিমিরা অ্যান্টার্কটিকার ঠান্ডা পানি ছেড়ে কুইন্সল্যান্ড ও উত্তর নিউ সাউথ ওয়েলসের উষ্ণ প্রজনন এলাকায় যাত্রা শুরু করে। চার থেকে ছয় মাসের এই দীর্ঘ অভিবাসনকে বিশ্বের অন্যতম বড় প্রাণী চলাচল হিসেবে ধরা হয়। এই সময় তারা সাধারণত খায় না, বরং শরীরের সংরক্ষিত চর্বির ওপর নির্ভর করে।
তবে উপকূলের কাছাকাছি আসায় ঝুঁকিও বাড়ছে। ২০২৫ সালে নিউ সাউথ ওয়েলসে ১৯টি তিমি তীরে আটকে পড়া এবং ২৮টি মাছ ধরার জালে ধরা পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এ বছরও সমুদ্রতটে তিমির সংখ্যা বাড়ায় উদ্ধার সংস্থাগুলোর কাছে কল বেড়েছে প্রায় ৯৩ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলযান, মাছ ধরার সরঞ্জাম এবং মানুষের কার্যকলাপ তিমিদের জন্য নতুন হুমকি তৈরি করছে। তাই তিমি দেখতে গেলে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি।
