আটলান্টিক মহাসাগরে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে রুদ্ধশ্বাস ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পর অবশেষে রুশ পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ ‘মেরিনেরা’ জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ভেনেজুয়েলা সংশ্লিষ্ট এই জাহাজটিকে ঘিরে গত কয়েক দিন ধরে আটলান্টিকে যে উত্তেজনা চলছিল, দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স জাহাজটি চূড়ান্তভাবে জব্দের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
দুই সপ্তাহের শ্বাসরুদ্ধকর ধাওয়া : ঘটনার সূত্রপাত গত মাসে, যখন ‘বেলা-১’ নামে পরিচিত এই জাহাজটি মার্কিন সামুদ্রিক ‘অবরোধ’ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। গত মাসে ক্যারিবীয় সাগরে মার্কিন কোস্ট গার্ড জাহাজটিতে ওঠার চেষ্টা করলে এটি নাটকীয়ভাবে গতিপথ পরিবর্তন করে এবং নিজের নাম বদলে রাখে ‘মেরিনেরা’। একই সঙ্গে জাহাজটি গায়ানার পতাকা বদলে রাশিয়ার পতাকা ব্যবহার শুরু করে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইরানি তেল পরিবহনের অভিযোগে জাহাজটি জব্দ করার পরোয়ানা ছিল ওয়াশিংটনের কাছে।
রাশিয়ার নৌ প্রতিরোধ ও উত্তেজনা : জাহাজটি যখন স্কটল্যান্ড ও আইসল্যান্ডের মাঝামাঝি অবস্থান করছিল, তখন সেটিকে নিরাপত্তা দিতে রাশিয়ার নৌবাহিনী এগিয়ে আসে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযান চলাকালে ওই এলাকায় একটি রুশ সাবমেরিনসহ বেশ কিছু সামরিক জাহাজ মার্কিন বাহিনীর খুব কাছাকাছি অবস্থানে ছিল। প্রায় ১০টি মার্কিন সামরিক পরিবহন বিমান ও হেলিকপ্টারের সহায়তায় মার্কিন কোস্ট গার্ড ও সামরিক বাহিনী এই যৌথ অভিযান সফল করে। ক্রেমলিন শুরু থেকেই এই পরিস্থিতিকে ‘উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ’ করার কথা জানালেও শেষ পর্যন্ত জাহাজটি মার্কিন নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
ট্রাম্পের ‘অবরোধ’ ও মাদুরো সংকট : প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার ওপর কঠোর সামুদ্রিক অবরোধ আরোপের পর থেকেই এই অভিযান শুরু হয়। ট্রাম্পের অভিযোগ ছিল, এসব জাহাজ ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচার করা হচ্ছে। গত শনিবার কারাকাসের সেফ হোম থেকে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনী তুলে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়। ভেনেজুয়েলা সরকার যুক্তরাষ্ট্রের এই জাহাজ জব্দ করার ঘটনাকে ‘চুরি’ বলে অভিহিত করেছে।
রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি : রুশ পতাকাবাহী এই জাহাজ জব্দের ঘটনা মস্কো ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে গেল। জাহাজটি বর্তমানে খালি থাকলেও এটি মূলত ভেনেজুয়েলার তেল পরিবহনে ব্যবহৃত হতো। খোলা সমুদ্রে রুশ পতাকাবাহী জাহাজ জব্দ করার এই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়া হতে পারে সুদূরপ্রসারী।
