সংযুক্ত আরব আমিরাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরুর আগেই নিজেদের অবস্থান আবারও স্পষ্ট করেছে রাশিয়া। মস্কো বলছে, শান্তিচুক্তি কার্যকর করতে হলে ইউক্রেনের সেনাবাহিনীকে অবশ্যই দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় দনবাস অঞ্চল থেকে সরে যেতে হবে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।
শুক্রবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাশিয়ার অবস্থান একেবারেই স্পষ্ট। ইউক্রেন ও তাদের সশস্ত্র বাহিনীকে দনবাস ছাড়তে হবে। সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। এটি শান্তিচুক্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।’
প্রায় চার বছর ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে দনবাস অঞ্চলের বড় একটি অংশ ইতোমধ্যে রাশিয়ার দখলে রয়েছে। ওই অঞ্চলগুলোতে বিতর্কিত নির্বাচন আয়োজন করেছিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। পরে সেগুলোকে রাশিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত করার ঘোষণা দেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশই এই সংযুক্তিকে স্বীকৃতি দেয়নি। আন্তর্জাতিক মহলে এসবকে অবৈধ দখল হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠক করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। বৈঠক শেষে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার দখলে থাকা ভূখণ্ডের ভবিষ্যৎই এখন যুদ্ধবিরতি চুক্তির পথে সবচেয়ে বড় বাধা। তবে বৈঠকের বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান উইটকফ। তবে তিনি স্বীকার করেন, ‘আলোচনা একটি মাত্র ইস্যুতে এসে আটকে আছে।’
দীর্ঘ এই যুদ্ধে ইতোমধ্যে কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন আরও অনেকে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর সহায়তায় ইউক্রেন নিজের ভূখণ্ড রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারপরও দনবাসের আরও কিছু এলাকা দখলে নিতে ধীরে ধীরে অগ্রসর হচ্ছে রুশ বাহিনী।
দনবাস ইস্যুতে এই একই মতবিরোধের কারণে গত বছরও শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নেয়নি।
