আমিরাত-ইসরায়েলের গোপন আঁতাত ফাঁস

- Advertisements -

আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাতকে নিরাপত্তা সহযোগিতার নজির হিসেবে অত্যাধুনিক লেজার-ভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠিয়েছে ইসরায়েল। সম্প্রতি ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে জেরুজালেম।

প্রতিরক্ষা সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এই সহযোগিতার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে দেশ দুটির মধ্যকার কৌশলগত সম্পর্ক নতুন বাঁক নিয়েছে। কেবল লেজার ব্যবস্থা নয় বরং গোয়েন্দা নজরদারি পদ্ধতিসহ আরও বেশ কিছু যুদ্ধাস্ত্র আমিরাতে পাঠানো হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে।

সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমস’ তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইসরায়েল তাদের অত্যন্ত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ‘আয়রন বিম’ লেজার সিস্টেমের একটি সংস্করণ আরব আমিরাতে মোতায়েন করেছে। এই ব্যবস্থাটি মূলত মিসাইল এবং ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম। এছাড়া আমিরাতকে ইরানের ড্রোন শনাক্ত করতে সাহায্য করার জন্য ‘স্পেকট্রো’ নামক একটি উন্নত নজরদারি ব্যবস্থা সরবরাহ করা হয়েছে। এই বিশেষ প্রযুক্তিটি প্রায় ২০ কিলোমিটার দূর থেকেই শত্রু ড্রোন শনাক্ত করতে সক্ষম বলে জানা গেছে।

Advertisements

এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস তাদের এক প্রতিবেদনে দাবি করেছিল, ইসরায়েল ইতিমধ্যে আরব আমিরাতে একটি ‘আয়রন ডোম’ ব্যাটারি মোতায়েন করেছে। সেই ব্যাটারিটি পরিচালনা করার জন্য বেশ কয়েক কয়েকজন ইসরায়েলি সেনাও বর্তমানে আমিরাতে অবস্থান করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্রের দাবি অনুযায়ী, সেখানে ইসরায়েলি সশস্ত্র বাহিনীর উপস্থিতি এবং বুট অন দ্য গ্রাউন্ডের সংখ্যা মোটেও নগণ্য নয়। অর্থাৎ সরাসরি সামরিক সহায়তার মাধ্যমে তারা আমিরাতি ভূখণ্ড রক্ষায় অংশ নিচ্ছে।

কেবল প্রযুক্তি বা অস্ত্র সরবরাহ করেই ইসরায়েল ক্ষান্ত হয়নি বরং তারা রিয়েল-টাইম ইন্টেলিজেন্স বা তাৎক্ষণিক গোয়েন্দা তথ্য দিয়েও আমিরাতকে সাহায্য করছে। ইরান থেকে কোনো মিসাইল বা ড্রোন উৎক্ষেপণ করা হলে সেই তথ্য দ্রুত আরব আমিরাতের সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে জানিয়ে দিচ্ছে জেরুজালেম। এর ফলে আকাশপথে ধেয়ে আসা যেকোনো হামলা মোকাবিলায় আমিরাত বাড়তি প্রস্তুতি গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে। এই ধরনের সরাসরি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এর আগে কখনো জনসমক্ষে প্রকাশ পায়নি।

Advertisements

২০২০ সালে আব্রাহাম অ্যাকর্ডস স্বাক্ষরের পর থেকে ইসরায়েল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক গড়ে উঠলেও তা মূলত যৌথ প্রশিক্ষণ মহড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে ইরানের পক্ষ থেকে আসা সাম্প্রতিক হুমকি এই সম্পর্ককে যুদ্ধকালীন সহযোগিতার পর্যায়ে নিয়ে গেছে। বাহরাইনও এই চুক্তির অংশীদার এবং তারাও ইরানি হুমকির মুখে রয়েছে। তবে বাহরাইনকেও একই ধরনের কোনো প্রতিরক্ষা সহায়তা দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, আমিরাতকে দেওয়া এই প্রতিরক্ষা সরঞ্জামগুলো মূলত প্রোটোটাইপ বা পরীক্ষামূলক সংস্করণ। যুদ্ধের তীব্রতা এবং দ্রুত পরিবর্তনের সাথে তাল মেলাতে ইসরায়েল তাদের নিজস্ব ব্যবস্থার সাথে পুরোপুরি সংযুক্ত হওয়ার আগেই এই সরঞ্জামগুলো সরাসরি ফিল্ডে পাঠিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে ‘আয়রন বিম’ ব্যবস্থাটি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইডিএফ-এর হাতে পৌঁছায় মাত্র গত বছরের ডিসেম্বরে। দীর্ঘ এক দশকের গবেষণার পর এই লেজার সিস্টেমটিকে গত সেপ্টেম্বরে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর ঘোষণা করা হয়েছিল।

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/zb79
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন