English

18 C
Dhaka
বুধবার, জানুয়ারি ২৮, ২০২৬
- Advertisement -

ইরান সরকারের পতন হলে বাফার জোনের পরিকল্পনা তুরস্কের

- Advertisements -

ইরানের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা এবং তেহরান সরকারের সম্ভাব্য পতনের মুখে তুর্কি সীমান্তে বড় ধরনের শরণার্থী স্রোত ঠেকাতে একটি বাফার জোন (নিরাপদ অঞ্চল) গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে তুরস্ক।

আঙ্কারার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বরাতে মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ বা দেশটিতে চলমান অস্থিরতার ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে ইরান সীমান্তের ওপারেই একটি সুরক্ষা বলয় তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে তুর্কি প্রশাসন।

গত বৃহস্পতিবার তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা সংসদ সদস্যদের এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এই পরিকল্পনার কথা জানান। বৈঠকে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, তুরস্ক সরকার কোনোভাবেই নতুন করে শরণার্থী ঢেউ নিজেদের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে দিতে চায় না। এর পরিবর্তে ইরান সীমান্তের ভেতরেই সম্ভাব্য শরণার্থীদের রাখার ব্যবস্থা করা হতে পারে।

তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে ইরানের সাথে ৫৬০ কিলোমিটার সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। ড্রোন, নজরদারি টাওয়ার এবং শত শত কিলোমিটার দীর্ঘ কংক্রিটের দেয়াল ও প্রতিরক্ষা খাদের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকাকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।

ইরানের বর্তমান টালমাটাল পরিস্থিতি মূলত তীব্র মুদ্রাস্ফীতি এবং সরকারের বিরুদ্ধে জনরোষ থেকে শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে হাজার হাজার মানুষ হতাহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছে। রণতরী এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে। ওয়াশিংটন বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলার জন্য দায়ী তেহরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে নিখুঁত হামলার পরিকল্পনা করছে বলেও গুঞ্জন রয়েছে।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান অবশ্য ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যেকোনো বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন। তিনি কূটনৈতিক উপায়ে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। আঙ্কারা অতীতে ইরাক ও সিরিয়া যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট শরণার্থী সংকটের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে এবার আগেভাগেই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ বা ইরানে ক্ষমতার পালাবদল ঘটলে কয়েক লক্ষ শরণার্থী তুরস্কের দিকে ধেয়ে আসতে পারে। আঙ্কারা পরিষ্কার করে দিয়েছে, আগের মতো উন্মুক্ত দুয়ার নীতি তারা আর অনুসরণ করবে না। তবে ইরানের বিশাল আজারবাইজানি তুর্কি জনগোষ্ঠীর ওপর কোনো প্রভাব পড়লে আঙ্কারার ওপর তাদের আশ্রয়ের ব্যাপারে অভ্যন্তরীণ চাপ তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/k7by
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন