যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ করে স্থায়ী সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছাতে নতুন তিন স্তরের প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। তবে সেই প্রস্তাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান চাইছে আগে হরমুজ প্রণালি ও ইরানি বন্দর থেকে মার্কিন অবরোধ ও প্রহরা তুলে নেওয়া হোক। কিন্তু তিনি চান, আগে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতা হোক, এরপর অন্য বিষয়গুলোতে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।
কয়েক দিন আগে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এই নতুন প্রস্তাব পাঠায় ইরান। প্রস্তাবের প্রথম ধাপে বলা হয়েছে, ইরান ও লেবাননে যুদ্ধ সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে এবং সেখানে আর মার্কিন বা ইসরায়েলি হামলা হবে না এমন নিশ্চয়তা দিতে হবে।
দ্বিতীয় ধাপে বলা হয়েছে, ইরানের বন্দরগুলো এবং হরমুজ প্রণালি থেকে যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ তুলে নেবে। পাশাপাশি প্রণালির ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে আলোচনা চলবে।
তৃতীয় ধাপে বলা হয়েছে, প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছালে ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে আলোচনা শুরু হবে।
এই তৃতীয় ধাপ নিয়েই মূল আপত্তি ট্রাম্পের। তিনি মনে করেন, আগে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতা না হলে অবরোধ প্রত্যাহারের প্রশ্নই আসে না।
ট্রাম্প বলেন, ‘তারা (ইরান) সমঝোতা চায়। তারা চায় আমি হরমুজ থেকে মার্কিন অবরোধ সরিয়ে নিই। কিন্তু আমি সেটা চাই না। আগে পরমাণু ইস্যুতে সমঝোতা হবে, তারপর অন্য সবকিছু।’
তিনি আরও বলেন, ইরান কোনোভাবেই পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না।
এর আগে, গত ১২ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ জারি করে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির চারপাশে কঠোর প্রহরা বসানো হয়, যাতে কোনো ইরানি জাহাজ সাগরে যেতে না পারে।
ট্রাম্পের দাবি, ‘এই অবরোধ বোমাবর্ষণের চেয়েও বেশি কার্যকর হয়েছে। অবরোধের ফলে ইরান দমবন্ধ অবস্থায় আছে। যদি অনড় থাকে, তাহলে ইরানের জন্য সামনে আরও খারাপ পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে।’
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরান যদি পরমাণু অস্ত্র না পাওয়ার বিষয়ে একমত না হয়, তাহলে অন্য কোনো ইস্যুতেই অগ্রগতি হবে না।
