মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রভাব আবারও পড়েছে ইরানের ফুটবলে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলা এবং তার জবাবে ইরানি বাহিনীর পাল্টা আঘাতে পুরো অঞ্চলে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। এর জেরে গত গ্রীষ্মে ‘টুয়েলভ-ডে ওয়ার’-এ ব্যাহত হওয়া লিগ মৌসুমের পর এবারও স্থগিত করা হয়েছে পারস্য উপসাগর প্রো লিগের ম্যাচসূচি।
শনিবারের ম্যাচ-ডে শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে স্থগিতের ঘোষণা আসে। এতে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ইরানে কর্মরত কয়েকজন স্প্যানিশ পেশাদার।
তেহরানভিত্তিক ক্লাব পারসেপোলিস এফসির ফিটনেস কোচ পেপে লোসাদা ও গোলরক্ষক কোচ এমিলিও আলভারেজের ইসফাহানে ম্যাচ খেলার কথা ছিল। শুক্রবার তারা সেখানে পৌঁছান, কিন্তু বিমানবন্দর একেবারে জনশূন্য দেখতে পান। শনিবার ইরানের আকাশসীমা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে বাধ্য হয়ে বাসে করে তেহরানে ফিরতে হয় তাদের।
সাবেক বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড মুনির এল হাদ্দাদি, যিনি বর্তমানে তেহরানের ক্লাব এস্তেঘালালে খেলছেন, শনিবার সকালে হামলা শুরুর সময় একটি বিমান থেকে নেমে যেতে বাধ্য হন। স্প্যানিশ-মরোক্কান এই ফুটবলার এখনো বিমানবন্দরেই অবস্থান করছেন। তাকে দেশ ছাড়তে সহায়তা করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে তার ক্লাব। সম্ভাব্য পালানোর পথ হিসেবে তুরস্কের দিকে স্থলপথকেই সবচেয়ে নিরাপদ ধরা হচ্ছে। তেহরান থেকে তুরস্কের প্রধান সীমান্ত ক্রসিং বাজরগান পর্যন্ত দূরত্ব আনুমানিক ১,৩০০ থেকে ১,৫০০ মাইল।
ইরানে থাকা অন্য স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের মধ্যে সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ, রিয়াল বেতিস ও আতলেতিকো মাদ্রিদ গোলরক্ষক আন্তোনিও আদান তুলনামূলকভাবে ভাগ্যবান ছিলেন। এস্তেঘালালের এই খেলোয়াড় ইরানের আকাশসীমা বন্ধ হওয়ার আগেই দেশ ছাড়তে সক্ষম হন।
ইরানে অবস্থানরত স্পেনের প্রায় ১৫০ জন নাগরিকের সঙ্গে ইতোমধ্যে যোগাযোগ করেছে দেশটির দূতাবাস। তাদের নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখতে বলা হয়েছে।
লোসাদা ও আলভারেজের ক্ষেত্রে, তেহরানে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে বলা হয়েছে, যাতে প্রয়োজনে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা প্রস্তুত করা যায়। তবে দেশের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে অন্তত তিন থেকে চার দিনের আগে এমন কোনো অভিযান শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
