English

17 C
Dhaka
শুক্রবার, জানুয়ারি ১৬, ২০২৬
- Advertisement -

এবার কোয়ান্টাম অস্ত্র নির্মাণ চীনের!

- Advertisements -

ভবিষ্যৎ যুদ্ধের রূপ বুঝতে এবার কোয়ান্টাম অস্ত্র তৈরির পথে চীন। চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) জানিয়েছে, কোয়ান্টামভিত্তিক ১০টির বেশি পরীক্ষামূলক সাইবার যুদ্ধ সরঞ্জাম বর্তমানে ‘উন্নয়নাধীন।’ এর অনেকগুলোই ইতোমধ্যে ‘সামনের সারির মিশনে পরীক্ষা করা হচ্ছে।

যুদ্ধক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণ তথ্য কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বিশ্লেষণ করা, প্রচলিত রাডার ব্যবস্থা ধরতে পারে না এমন স্টেলথ বিমান শনাক্ত করাসহ নানাবিধ সুবিধা থাকবে এসব অস্ত্রে।

চীনা সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রকল্পটির নেতৃত্ব দিচ্ছে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব ডিফেন্স টেকনোলজির একটি সুপারকম্পিউটিং ল্যাবরেটরি।  প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য—ক্লাউড কম্পিউটিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং কোয়ান্টাম প্রযুক্তি।  চীনের রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদমাধ্যম সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ডেইলির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে হংকং থেকে প্রকাশিত ইংরেজি সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।

সামরিক কমান্ডাররা আশা করছেন, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ব্যবহারের মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রের বিপুল পরিমাণ তথ্য কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বিশ্লেষণ করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং বণ্টন সহজ ব্যবস্থা করা। এছাড়াও বলা হচ্ছে, কোয়ান্টাম সেন্সিং ও অবস্থান নির্ধারণ প্রযুক্তি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও শক্তিশালী করতে পারে।  এই প্রযুক্তির মাধ্যমে এমন স্টেলথ বিমান শনাক্ত করা সম্ভব যেগুলো প্রচলিত রাডার ব্যবস্থা ধরতে পারে না।

চীনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা উন্মুক্ত সাইবারস্পেস থেকে উচ্চমূল্যের সামরিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে কোয়ান্টাম প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।  কোয়ান্টাম প্রযুক্তি ব্যবহার করে এমন অত্যন্ত নির্ভুল নেভিগেশন ব্যবস্থা তৈরি করা যেতে পারে, যা স্পুফিং বা জ্যামিংয়ের মতো হামলার বিরুদ্ধে কার্যকর থাকবে।

পত্রিকাটির সঙ্গে কথা বলা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সামরিক কর্মকর্তা বলেন, নতুন সাইবার অস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে ‘দ্রুততা ও পরিবর্তনই’ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এসব অস্ত্র উন্নয়নের মূল নীতি হলো—একটি ভালো অস্ত্র ডিজাইন করতে হলে আগে ভবিষ্যৎ যুদ্ধের রূপ কেমন হবে, তা ভাবতে হবে।

পিএলএর ইনফরমেশন সাপোর্ট ফোর্সের গবেষক লিউ ওয়ে পত্রিকাটিকে বলেন, গবেষক দল সাইবার নিরাপত্তার ওপর ভিত্তি করে যুদ্ধক্ষেত্র সম্পর্কে নতুন সচেতনতা মডেল তৈরিতে কাজ করছে। ভবিষ্যতেও আমরা সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্ব বজায় রাখব, যাতে তাদের আরও ভালোভাবে সেবা দেওয়া যায়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ইউনিটের গবেষকেরা সামনের সারির সেনাদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করছেন, যাতে তাদের প্রকৃত চাহিদা ভালোভাবে বোঝা যায়। এক বছরের মধ্যে সংগৃহীত আলাদা আলাদা তথ্য ব্যবহার করে তারা একটি সমন্বিত পরিস্থিতি মানচিত্র তৈরি করেছেন।

প্রতিবেদনটিতে কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও সুপারকম্পিউটিং ইউনিটের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বক্তব্যও উদ্ধৃত করা হয়। তিনি বলেন, অপারেশনাল চাহিদা সম্পর্কে আমাদের সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং প্রযুক্তি ব্যবহারে সংবেদনশীলতা বজায় রাখতে হবে।

প্রবন্ধে আরও বলা হয়, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই ইউনিট যুদ্ধ, প্রযুক্তি ও প্রতিপক্ষের পরিবর্তনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে মানিয়ে নিয়েছে এবং প্রযুক্তিনির্ভর প্রয়োগের মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রের প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা করেছে। দলটি সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির গতিশীল পর্যবেক্ষণ, ফলাফল বাছাই এবং বাস্তব প্রয়োগকে এগিয়ে নিয়েছে।

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/3zl6
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ

হুম্মাম কাদেরের প্রার্থিতা বহাল

- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন