মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে চলমান সংঘাতের জেরে নিরাপত্তা শঙ্কায় ইস্টার সানডে গির্জাগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
এতে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা এবং মঙ্গলের স্বার্থে ধর্মপ্রাণ মানুষদের গির্জার প্রাঙ্গণে আসা থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।
সেন্ট মেরিস ক্যাথলিক চার্চ, সেন্ট ফ্রান্সিস অফ আসিসি ক্যাথলিক চার্চ এবং সেন্ট থমাস অর্থোডক্স ক্যাথেড্রালসহ গির্জাগুলোর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরকারের নির্দেশনার পর সেগুলো বন্ধ থাকবে এবং গুড ফ্রাইডের প্রার্থনা তাদের নিজস্ব চ্যানেলের মাধ্যমে অনলাইনে অনুষ্ঠিত হবে।
দুবাইয়ের বাসিন্দা সান্ড্রা সাব্বাগ বলেছেন, পবিত্র সপ্তাহ বছরের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত সময়গুলোর মধ্যে একটি। তিনি বলেন, আমরা প্রায় পাঁচ সপ্তাহ ধরে উপবাস করি এবং এই সপ্তাহটি আমাদের উপবাসের সময়কালের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সপ্তাহ হিসেবে বিবেচিত হয়। এখন ইস্টার সানডে গির্জায় না আসাটা হতাশার।
তিনি আরও বলেন, অবশ্যই, আমরা হতাশ, কিন্তু একই সঙ্গে সরকার জনগণের মঙ্গল ও তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে না হলে এমন সিদ্ধান্ত নিত না। আমরা এসন সিদ্ধান্তে সমর্থন করি। আমি প্রার্থনা করি যেন দ্রুত শান্তি আসে, আমরা যেন এই পুরো পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারি।
যদিও লাইভস্ট্রিম করা প্রার্থনা সভা উপাসকদের বাড়ি থেকে আধ্যাত্মিক সংযোগ বজায় রাখতে সাহায্য করে, অনেকেই বলছেন, সশরীরে উপস্থিতির অভাবে উৎসবটি অসম্পূর্ণ মনে হচ্ছে, কিন্তু তারা সরকারি নিয়ম মেনে চলার ওপর জোর দিয়েছেন।
দুবাইয়ের বাসিন্দা র্যাচেল হেনরি বলেন, গির্জায় যেতে না পারাটা হতাশাজনক হলেও, উপাসনার জন্য ভার্চুয়ালি একত্রিত হতে পেরে খুশি তিনি। তিনি বলেন, প্রযুক্তি ও অন্যান্য সবকিছুর কল্যাণে আমরা অনলাইনে যোগ দিতে পারি। তাই অংশগ্রহণের অনুভূতিটা একই রকম থাকে, কিন্তু গির্জায় সশরীরে উপস্থিত থাকতে না পারা এবং অংশ নিতে না পারার অভাবটা সবসময়ই থেকে যায়।
এদিকে গাল্ফ নিউজের এক প্রতিবেদনে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দুবাইয়ের শিখ গুরুদ্বার, শ্রী কৃষ্ণ মন্দির এবং কয়েকটি মন্দির পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
