টানা ১৫ দিন পেরিয়ে ১৬তম দিনেও জ্বলছে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথভাবে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তৎক্ষণাৎ পাল্টা হামলা শুরু করে ইরানও। এতে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে গোটা মধ্যপ্রাচ্য।
এর জেরেই রবিবারও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ফুজাইরাহ তেল টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা হয়েছে। একইসঙ্গে উপসাগরীয় বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটিও হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, রবিবার ইরানের নতুন হামলায় দুবাইয়ের মেরিনা ও আল সুফুহ এলাকায় জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ তেল টার্মিনালে হামলার পর সেখানে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও কয়েকটি ড্রোন আঘাত হানে। তবে এ ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
হামলার পর ফুজাইরাহ থেকে কালো ধোঁয়ার ঘন কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। কর্তৃপক্ষ কয়েক ঘণ্টা ধরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। এতে একজন জর্ডানীয় নাগরিক আহত হন বলে জানানো হয়েছে। দুবাইয়ের মিডিয়া অফিস জানায়, শহরের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার পর এই বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
এর আগে শনিবার দুবাইয়ের কেন্দ্রীয় এলাকায়ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রতিহত করা হামলার কারণে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছিল। তার আগের দিন শুক্রবার শহরের ব্যস্ত ডাউনটাউন এলাকাতেও একই ধরনের ঘটনা ঘটে।
এদিকে রবিবার হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপে হামলা চালালে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। এই দ্বীপের মাধ্যমে ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল প্রক্রিয়াজাত ও রফতানি হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, তারা দ্বীপটির ‘সব সামরিক লক্ষ্যবস্তু সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করেছে, তবে পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ওই দ্বীপের জ্বালানি অবকাঠামো অক্ষত রাখা হয়েছে।
এই সংঘাতে ইরান ইতোমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে ১৮০০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ১,৬০০ ড্রোন, ২৯৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১৫টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। এসব হামলায় রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৬ জন নিহত এবং ১৪১ জন আহত হয়েছেন।
এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের বিশাল রাস তানুরা তেল শোধনাগার, কাতারের রাস লাফান গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের রুয়াইস তেল শোধনাগার কমপ্লেক্স।
এর আগে শনিবার প্রথমবারের মতো ইরান সরাসরি সংযুক্ত আরব আমিরাতকে সতর্কবার্তা দেয়। তেহরান তিনটি বড় বন্দর এলাকা খালি করার আহ্বান জানায় এবং এগুলোকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ বলে উল্লেখ করে। ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র এসব বন্দর ব্যবহার করে হামলা চালাচ্ছে।
এদিকে ইরান নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর ইসরায়েলের তেল আবিবেও জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বাহরাইনের রাজধানী মানামার আকাশেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। দেশটি জানিয়েছে, ইরানের হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে তারা ১২৫টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২০৩টি ড্রোন প্রতিহত করেছে।
ইরানি হামলার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানোর অভিযোগে বাহরাইনে এখন পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই উত্তেজনার মধ্যে এপ্রিল মাসে বাহরাইন ও সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা ফর্মুলা–ওয়ান রেস বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে সৌদি আরবের আল-খার্জ সামরিক ঘাঁটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এই ঘাঁটিতে মার্কিন সেনারা অবস্থান করছে। জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের দিকে ছোড়া ৮৫টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মধ্যে ৭৯টি প্রতিহত করা হয়েছে।
