আফগানিস্তানের নানগরহার ও খোস্ত প্রদেশে পাকিস্তানি সেনা হামলার অভিযোগ এনে কাবুল বৃহস্পতিবার পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করেছে।
তালেবান সরকার বলছে, এসব হামলায় অন্তত তিনজন বেসামরিক নিহত ও সাতজন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।
আফগান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে অভিযোগ করে বলেছে, পাকিস্তান আফগান আকাশসীমা লঙ্ঘন করে দারুণ্ড লাইন সংলগ্ন এলাকায় বোমাবর্ষণ করেছে। এটিকে ‘আফগান ভূখণ্ডের ওপর নগ্ন আঘাত ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
কাবুল সতর্ক করে দিয়েছে— আফগান সার্বভৌমত্ব রক্ষাই ইসলামী আমিরাতের ‘লাল দাগ’; এমন কর্মকাণ্ডের পরিণতি অনিবার্য হবে।
পাকিস্তান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রদূত তলব বা সীমান্তপারের হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে নানগরহারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিনওয়ার জেলায় দুটি ড্রোন হামলায় এক ব্যক্তির বাড়ি লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর মাওলভি আজিজুল্লাহ মুস্তাফা বলেন, আফগানিস্তান শান্তি, স্থিতিশীলতা ও ভালো প্রতিবেশী সম্পর্কের পক্ষে, কিন্তু এ ধরনের হামলা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে নতুন উত্তেজনা
ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে আফগান তালেবান পাকিস্তানি তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানকে (টিটিপি) আশ্রয় দিচ্ছে। টিটিপি সম্প্রতি পাকিস্তানের ভেতরে হামলা বাড়িয়েছে।
পাকিস্তান মাঝেমধ্যে সীমান্তপারের হামলা চালায় বলে স্বীকার করেছে, দাবি করেছে এগুলো সন্ত্রাসী ঘাঁটির বিরুদ্ধে। তবে কাবুল এসব পদক্ষেপকে সব সময় ‘সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন’ বলে নিন্দা জানায়।
চলতি বছর শুরুর দিকে পাকিস্তান সীমান্ত বাণিজ্য পথ বন্ধ করে দিলে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়। আফগানিস্তান পাল্টা বাণিজ্যে সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ দেখাচ্ছে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এখনও ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে।
কূটনৈতিক যোগাযোগেও অচলাবস্থা
সম্প্রতি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার কাবুল সফরে গিয়ে আফগান অন্তর্বর্তীকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির সঙ্গে বৈঠক করেন এবং টিটিপি-সংক্রান্ত অগ্রগতির অভাব নিয়ে কঠোর আপত্তি তোলেন।
এর আগে মুত্তাকির ইসলামাবাদ সফর জাতিসংঘের ভ্রমণ ছাড়পত্র না পাওয়ায় বাতিল হয়। নতুন করে সফরের পরিকল্পনা থাকলেও সর্বশেষ উত্তেজনার কারণে তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।