মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এমন একটি অনলাইন পোর্টাল তৈরি করছে, যার মাধ্যমে ইউরোপসহ বিশ্বের অন্য প্রান্তের মানুষ তাদের নিজ নিজ দেশের সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ করা কন্টেন্ট দেখতে পারবে। এর মধ্যে কথিত ‘হেট স্পিচ’ বা বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এবং উগ্রবাদী প্রচারণাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
পরিকল্পনার বিষয়ে অবগত তিনটি সূত্র জানায়, ওয়াশিংটন এই পদক্ষেপকে সেন্সরশিপ বা তথ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিরোধের একটি উপায় হিসেবে দেখছে।
সূত্রগুলো জানায়, সাইটটি ‘ফ্রিডম ডট গভ’ নামে ডোমেইনে হোস্ট করা হবে। এক কর্মকর্তা জানান, ব্যবহারকারীর ট্রাফিক বা অবস্থান যেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসছে বলে মনে হয়, সেজন্য সাইটটিতে একটি ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক বা ভিপিএন ফাংশন যুক্ত করার বিষয়ে কর্মকর্তারা আলোচনা করেছেন। এছাড়া সাইটটিতে ব্যবহারকারীর কোনো কার্যক্রম ট্র্যাক বা নজরদারি করা হবে না বলেও তিনি জানান।
পাবলিক ডিপ্লোম্যাসি বিষয়ক আন্ডারসেক্রেটারি সারাহ রজার্সের নেতৃত্বে পরিচালিত প্রকল্পটি গত সপ্তাহে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে উন্মোচন করার কথা ছিল, কিন্তু তা বিলম্বিত হয়েছে বলে সূত্রগুলো উল্লেখ করেছে।
প্রকল্পটি ট্রাম্প প্রশাসন এবং ইউরোপের ঐতিহ্যবাহী মার্কিন মিত্রদের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্কে আরও টানাপোড়েন সৃষ্টি করতে পারে। বাণিজ্য, ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ এবং গ্রিনল্যান্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে এই দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক আগে থেকেই উত্তপ্ত হয়ে আছে।
পোর্টালটি ওয়াশিংটনকে একটি অপরিচিত অবস্থানে দাঁড় করিয়ে দিতে পারে, যেখানে মনে হতে পারে যে তারা অন্য দেশের নাগরিকদের স্থানীয় আইন অমান্য করতে উৎসাহিত করছে।
এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, ইউরোপের জন্য নির্দিষ্ট কোনো ‘সেন্সরশিপ-সারকামভেনশন’ (নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তথ্য দেখার) প্রোগ্রাম মার্কিন সরকারের নেই। তবে তিনি যোগ করেন: ‘ডিজিটাল স্বাধীনতা পররাষ্ট্র দপ্তরের জন্য একটি অগ্রাধিকার এবং এর মধ্যে ভিপিএন-এর মতো গোপনীয়তা রক্ষা ও সেন্সরশিপ এড়ানোর প্রযুক্তির বিস্তারও অন্তর্ভুক্ত।’