ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যেই চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মধ্যেই নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়ে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল ‘মিনিটম্যান-৩’ এর সফল পরীক্ষা চালানোর দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্র।
ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যানডেনবার্গ স্পেস ফোর্স বেস থেকে ৩ মার্চ এই শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়। পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম এই মিসাইলটি ‘ডুমসডে’(কেয়ামতের ক্ষেপণাস্ত্র) নামে পরিচিত।
মার্কিন বিমানবাহিনীর গ্লোবাল স্ট্রাইক কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই পরীক্ষাটি কোনো সমসাময়িক বিশ্ব ঘটনার প্রতিক্রিয়া নয় বরং বহু বছর আগেই এটি পূর্বনির্ধারিত ছিল। কয়েক দশকের ডেটা-চালিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে অস্ত্র ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করতেই ৩০০টিরও বেশি এমন পরীক্ষার ধারাবাহিকতায় এই উৎক্ষেপণ সম্পন্ন হয়েছে।
পরীক্ষামূলক এই যাত্রায় ক্ষেপণাস্ত্রটির রিয়েন্ট্রি ভেহিকেলগুলো হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে মার্শাল আইল্যান্ডের কোয়াজালিন অ্যাটলে অবস্থিত একটি নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। মিনিটম্যান-৩ হলো আমেরিকার একমাত্র ভূমিভিত্তিক এবং সিলো-চালিত পারমাণবিক ব্যালিস্টিক মিসাইল, যার পাল্লা প্রায় ১৩ হাজার কিলোমিটার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্রটি একই সঙ্গে তিনটি ভিন্নমুখী লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হলেও বর্তমানে আন্তর্জাতিক পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তির কারণে এটি একটি মাত্র ওয়ারহেড বহন করে। একে ‘ডুমসডে’ মিসাইল বলার মূল কারণ হলো, এর একবার ব্যবহার সারা বিশ্বে এমন তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে দিতে পারে যা পৃথিবীকে বসবাসের অযোগ্য করে তুলবে।
এই মিসাইল পরীক্ষাটি এমন এক সময়ে সম্পন্ন হলো যখন মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি চরম অস্থিতিশীল। গত শনিবার মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর যুদ্ধ ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এর জবাবে তেহরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
