ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর বিরোধী দলগুলোর চাপ দিন দিন বাড়ছে। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে অনাস্থা প্রস্তাব আনার পর এবার বিরোধীদের লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তাকে পদ থেকে অপসারণের দাবিতে অভিশংসনের নোটিশ সংসদের নিম্ন ও উচ্চ দুই উভয়কক্ষেই জমা দিয়েছে বিরোধী দলগুলো।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) লোকসভা ও রাজ্যসভায় এ সংক্রান্ত নোটিশ দাখিল করা হয়েছে।
সংসদীয় ভারতের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের দাবিতে অভিশংসন নোটিশ আনা হলো। সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের বিচারপতিদের অপসারণে যে অভিশংসন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনের অন্য সদস্যদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।
বিরোধী সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া (পিটিআই) জানিয়েছে, নোটিশটিতে লোকসভার ১৩০ জন এবং রাজ্যসভার ৬৩ জন বিরোধী সদস্যসহ মোট ১৯৩ জনের স্বাক্ষর রয়েছে। বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া জোট’র দলগুলোর পাশাপাশি জোটের বাইরে থাকা আম আদমি পার্টির সদস্যরাও এতে সই করেছেন। কয়েকজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যও এতে সমর্থন দিয়েছেন।
নিয়ম অনুযায়ী, এ ধরনের অভিশংসন প্রস্তাব আনতে হলে লোকসভার অন্তত ১০০ এবং রাজ্যসভার ৫০ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন।
নোটিশে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে মোট সাতটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল— ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রতি পক্ষপাতিত্বের। এছাড়া তার নির্দেশে প্রথমে বিহার এবং পরে অন্যান্য রাজ্যে ভোটের আগে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন কার্যক্রমকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করছেন বিরোধীরা।
জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণ, নির্বাচনী জালিয়াতির তদন্তে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা দেওয়া এবং বিপুলসংখ্যক নাগরিককে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগও তোলা হয়েছে।
অভিশংসনের উদ্যোগে সর্ব ভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছে ভারতীয় ন্যাশনাল কংগ্রেস। এর ফলে লোকসভায় স্পিকার অপসারণের নোটিশেও তৃণমূলের সদস্যরা সম্মতি দেন এবং আলোচনায় অংশ নেন। রাজনৈতিকভাবে এই দুটি ইস্যু অনেক দিন পর বিরোধী দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের পরিবেশ তৈরি করেছে। এমনকি কয়েকজন স্বতন্ত্র সদস্যের সমর্থনও তারা পেয়েছেন।
তবে এই সমর্থনের ভিত্তিতে জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণ করা বাস্তবে সম্ভব নয়। কারণ, সংসদে বিতর্ক শেষে প্রস্তাব পাস করতে হলে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। সেই সংখ্যা অর্জন করা কঠিন জেনেও বিরোধীরা মূলত রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি এই ইস্যুতে বিরোধী শিবিরকে এক মঞ্চে আনতেও তারা সফল হয়েছে।
