বৃহস্পতিবার উত্তর পূর্ব ভারতের রাজ্য মেঘালয়ের ইস্ট জয়ন্তিয়া হিলস জেলার তাশখাইতে একটি কয়লা খনিতে শক্তিশালী বিস্ফোরণে কমপক্ষে ১৮ জন শ্রমিক মারা গেছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন এক শ্রমিক। তাকে প্রথমে সুতাংগা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু অবস্থার অবনতি হলে পরবর্তীতে শিলং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, থাংস্কো এলাকার মিনসিঙ্গাটে একটি অবৈধ কয়লা খনির ভেতরে এই বিস্ফোরণটি ঘটে। এ সময় ওই কয়লা খনিতে একাধিক শ্রমিক কাজ করছিলেন। মৃতদের বেশির ভাগই আসামের শ্রমিক ছিলেন বলে কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা।
এই ঘটনার পর মেঘালয় পুলিশ উদ্ধার অভিযান শুরু করে। বিস্ফোরণের পরে বেশ কয়েকটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে যেখানে দেখা যাচ্ছে, খনি থেকে কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে এবং শ্রমিকদের ঘটনাস্থলের আশপাশে দেখা যাচ্ছে। বাইরে থাকা শ্রমিকরা ঘটনাস্থলে জড়ো হচ্ছেন। ঘটনাস্থলে কিছু নারী ও শিশুকেও দেখা যাচ্ছে।
স্থানীয় পুলিশ সুপার বিকাশ কুমার জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ১৬টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার অভিযান চলছে। তবে কী কারণে এই বিস্ফোরণ বা খনিতে কতজন শ্রমিক কাজ করছিলেন সেটা এখনো পরিষ্কার নয়।
যদিও খনির ভেতরে আরও মরদেহ আটকা পড়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় প্রশাসন।
মেঘালয়ের পূর্ব জয়ন্তিয়া হিলসে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ জানানোর পাশাপাশি মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একইসঙ্গে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিল (পিএমএনআরএফ) থেকে আর্থিক সহায়তার ঘোষণাও করেছেন তিনি।
আলাদা করে মেঘালয় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও হতাহতদের পরিবারের সদস্য পিছু আর্থিক ক্ষতিপূরণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা।
রাজ্যে কয়লা খনিতে বিস্ফোরণের ঘটনার পরই মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেন। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সম্ভাব্য সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি।
