English

19 C
Dhaka
রবিবার, জানুয়ারি ১৮, ২০২৬
- Advertisement -

মাদুরোকে তুলে নেওয়ার কয়েক মাস আগে কাবেলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে যুক্তরাষ্ট্র

- Advertisements -

ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার কয়েক মাস আগেই দেশটির প্রভাবশালী ও কট্টরপন্থী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলোর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। অভিযানের পরও এই যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

সূত্রগুলো জানায়, ৬২ বছর বয়সী কাবেলোকে যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করে বলেছিল, তিনি যেন নিজের নিয়ন্ত্রণাধীন নিরাপত্তা বাহিনী বা ক্ষমতাসীন দলের সশস্ত্র সমর্থকদের ব্যবহার করে রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন না চালান। যুক্তরাষ্ট্রের ৩ জানুয়ারির অভিযানের পরও গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীসহ এই নিরাপত্তা কাঠামো মূলত অক্ষত রয়েছে।

মাদুরোর মতো কাবেলোর বিরুদ্ধেও যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের অভিযোগে মামলা রয়েছে। তবে মাদুরোকে গ্রেপ্তার করা হলেও অভিযানের সময় কাবেলোকে আটক করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাবেলোর আলোচনায় তার বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এবং বিচারিক অভিযোগও উঠে আসে বলে জানা গেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের শুরুর দিক থেকেই এই যোগাযোগ শুরু হয়। মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্ত পর্যন্ত তা চলতে থাকে। এমনকি মাদুরোকে তুলে নেওয়ার পরও কাবেলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই যোগাযোগ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাবেলো যদি তার নিয়ন্ত্রণাধীন বাহিনীকে সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করেন, তবে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে এবং অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের ক্ষমতা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাবেলোর আলোচনায় ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা নিয়ে কোনো সমঝোতা হয়েছে কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা তিনি মানছেন কিনা, সেটিও নিশ্চিত নয়। তবে প্রকাশ্যে কাবেলো রদ্রিগেজের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছেন।

ভেনেজুয়েলার দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি
দিয়োসদাদো কাবেলো দীর্ঘদিন ধরেই ভেনেজুয়েলার দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। প্রয়াত প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজের ঘনিষ্ঠ সহযোগী কাবেলো পরে মাদুরোর বিশ্বস্ত অনুচরে পরিণত হন এবং সরকারের দমন-পীড়নের প্রধান বাস্তবায়নকারী হিসেবে পরিচিতি পান।

সাবেক সামরিক কর্মকর্তা কাবেলো সেনাবাহিনী ও বেসামরিক গোয়েন্দা সংস্থার ওপর ব্যাপক প্রভাব রাখেন। সরকারপন্থী সশস্ত্র মিলিশিয়া গোষ্ঠী ‘কোলেক্তিভোস’-এর সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, যাদের অতীতে বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলার অভিযোগ আছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, দমন-পীড়নের ইতিহাস এবং রদ্রিগেজের সঙ্গে ক্ষমতার দ্বন্দ্বের কারণে কাবেলো যেকোনো সময় পরিস্থিতি ঘোলাটে করে তুলতে পারেন।

কাবেলোকে ধরিয়ে ‍দিতেও পুরস্কার ঘোষণা
মাদক পাচারের অভিযোগে কাবেলোর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ২০২০ সালে তাকে ‘কার্তেল দে লোস সোলেস’ নামের একটি মাদক পাচার চক্রের শীর্ষ নেতা হিসেবে অভিযুক্ত করে যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় তাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ১ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়, যা পরে বাড়িয়ে ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার করা হয়। যদিও কাবেলো এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

মাদুরোকে তুলে নেওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্র কেন কাবেলোকে গ্রেপ্তার করেনি- তা নিয়ে ওয়াশিংটনে প্রশ্ন উঠেছে।

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/ai0i
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ

নারকেল কোরানোর ৩ সহজ কৌশল

- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন