যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে আমাদের একটি বিশাল নৌবহর। আশা করি, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছাব আমরা। যদি চুক্তি হয়, ভালো। আর চুক্তি না হলে কী হয়, সেটা দেখা যাবে। শুক্রবার এক প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকদের এমন কথা বলেছেন ট্রাম্প।
আমি এটা বলতে পারি, তারা (ইরান) একটি চুক্তি করতে চায়- এমন আশা প্রকাশ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও বলেছেন, মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের মুখোমুখি না হয়ে ইরান বরং আলোচনার মাধ্যমে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চাইবে। ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য তিনি কোনো সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন কি না, এমন প্রশ্নে ট্রাম্প জানান, ‘হ্যাঁ, আমি দিয়েছি।’ তবে সেই সময়সীমা ঠিক কবে, তা প্রকাশ করতে রাজি হননি তিনি।
এদিকে, তেহরান আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার নিয়ে কখনোই কোনো আলোচনা হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন রণতরীর কাছাকাছি গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে দুই দিনব্যাপী লাইভ-ফায়ার নৌ মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। রবিবার থেকে শুরু হওয়ার কথা এই মহড়া।
এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিংকনসহ একাধিক নৌবহর মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের ঘোষণার পরপরই তেহরানকে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক কমান্ড সেন্টকম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে কোন ধরনের ‘অনিরাপদ ও অপেশাদার আচরণ’ সহ্য করবে না ওয়াশিংটন। বিশেষ করে মার্কিন রণতরীর ওপর দিয়ে ইরানি ড্রোন বা বিমান উড্ডয়ন, কিংবা ইরানি স্পিডবোটের কাছে আসাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে বিবেচিত হবে।
এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী, আঞ্চলিক অংশীদার কিংবা বাণিজ্যিক জাহাজের আশপাশে অনিরাপদ আচরণ সংঘর্ষ, উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি বাড়ায়। সেন্টকম আরও দাবি করে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে প্রশিক্ষিত ও শক্তিশালী বাহিনী। আমরা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে আন্তর্জাতিক নীতিমালা অনুসরণ করি। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এরও একই আচরণ করা উচিত।
যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ইরানের ঘোষিত মহড়ার সময় সরাসরি গোলাবারুদ ব্যবহার করা হলেও তা যেন হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত না করে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও পণ্য পরিবহন হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই মহড়া ও পাল্টা সতর্কবার্তা হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনাকে আরও বাস্তব করে তুলছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।
