মালিকের মেয়েকে হত্যার পর ধর্ষণ: অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি ‘মারতে চাইনি, হয়ে গেছে’

- Advertisements -

ভারতের রাজধানী দিল্লির দক্ষিণ প্রান্তের অভিজাত কৈলাশ হিলস এলাকায় এক আইআরএস (ভারতীয় রাজস্ব সেবা) অফিসারের ২২ বছর বয়সী মেয়েকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় শিউরে উঠেছে দেশ। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ১৯ বছর বয়সী রাহুল মিনা পুলিশের জেরায় দাবি করেছে যে, তার উদ্দেশ্য খুন করা ছিল না, বরং কেবল চুরির জন্য সে ওই বাড়িতে ঢুকেছিল।

দিল্লির ওই বাড়িতে দীর্ঘ আট মাস গৃহভৃত্য হিসেবে কাজ করা রাহুল জানায়, টাকার দরকার ছিল বলেই সে পুরোনো মালিকের বাড়িতে হানা দেয়। তার ভাষায়, দিদি যদি টাকা দিয়ে দিতেন, তবে এমনটা হতো না। আমি মারতে চাইনি, কিন্তু হয়ে গেছে।

Advertisements

পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, এই এক রাতেই রাহুল একাধিক অপরাধ ঘটিয়েছে। দিল্লির এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেই রাজস্থানের আলওয়ারে এক বন্ধুর স্ত্রীকে যৌন হেনস্তা ও মোবাইল চুরির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সেখান থেকে ক্যাব ভাড়া করে দিল্লিতে পৌঁছে সে আইআইটি স্নাতক ওই তরুণীর ওপর চড়াও হয়। ঘটনার সময় বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগ নিয়ে রাহুল ডুপ্লিকেট চাবি দিয়ে ঘরে ঢোকে এবং সোজা চিলেকোঠার পড়ার ঘরে যায়। সেখানে ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ওই তরুণী। রাহুলকে দেখে তিনি চিৎকার করলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। রাহুল প্রথমে একটি ভারী ল্যাম্প দিয়ে তরুণীর মুখে ও শরীরে আঘাত করে এবং পরে মোবাইল চার্জারের তার দিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করে।

হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত ওই তরুণীকে নিথর অবস্থায় ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। এরপর আলমারি খোলার জন্য সে মৃত তরুণীর রক্তাক্ত আঙুল দিয়ে বায়োমেট্রিক স্ক্যানার খোলার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত স্ক্রু-ড্রাইভার দিয়ে লকার ভেঙে নগদ টাকা ও গয়না নিয়ে নিজের রক্তাক্ত পোশাক বদলে সে চম্পট দেয়। এই ঘটনায় ময়নাতদন্তের রিপোর্টে শ্বাসরোধ করে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

আদালতে তোলার সময় রাহুল নিজের অপরাধ স্বীকার করে একে ‘ভুল’ বলে অভিহিত করলেও পুলিশের দাবি, তার মধ্যে কোনো অনুশোচনা নেই। জেরা চলাকালীন সে অত্যন্ত শান্ত ও স্বাভাবিক আচরণ করছে। সাবেক মালিককে ‘ভগবান’ বলে সম্বোধন করলেও টাকার লোভই তাকে এই জঘন্য পথে ঠেলে দিয়েছে বলে সে জানায়।

Advertisements

রাহুলের এমন অস্বাভাবিক মানসিক অবস্থা ও অপরাধ প্রবণতা দেখে দিল্লি পুলিশ তার ‘সাইকো-অ্যানালিসিস’ বা মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমানে সে চার দিনের পুলিশি হেফাজতে রয়েছে।

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/e28y
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন