আফগানিস্তানে ন্যাটো মিশনের সহায়তাকারী শত শত বিপন্ন আফগান নাগরিকের জীবন বাঁচাতে আমেরিকার ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরী। জাহরা নামের ওই কিশোরী গত ১৮ মাস ধরে কাতারের মার্কিন পরিচালিত শরণার্থীশিবির ‘ক্যাম্প আস সাইলিয়া’ (সিএএস)-তে বন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।
আফগান সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তার মেয়ে জাহরা গত চার বছর ধরে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। ২০২১ সালে তালেবানরা ক্ষমতা দখলের পর তার পরিবার দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল, কারণ তার বাবা মার্কিন বাহিনীর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছিলেন।
বর্তমানে ওই শিবিরে প্রায় ১১০০ আফগান নাগরিক আটকা পড়ে আছেন। ট্রাম্প প্রশাসন তাদের আমেরিকায় নেওয়ার প্রক্রিয়া স্থগিত করার পর থেকে এক চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি খবর ছড়িয়েছে যে, এই শরণার্থীদের মধ্য আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে স্থানান্তরিত করা হতে পারে। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকেও তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর সম্ভাবনা নাকচ করা হয়নি। এই খবরে ক্যাম্পের বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। নিজের এবং পরিবারের একটি সুন্দর ভবিষ্যতের আশায় জাহরা একটি ভিডিও বার্তায় মেলানিয়া ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বলে যে, তারা খুব বড় কিছু চাইছে না, কেবল শান্তিতে বাঁচার অধিকার এবং শিক্ষার সুযোগ চায়।
ভিডিওতে জাহরা অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে বলে, গত দুই বছর সে এক সামরিক ক্যাম্পে কাটিয়েছে যেখানে কিশোরীদের জন্য কোনো সুরক্ষা বা শিক্ষার ব্যবস্থা নেই। তালেবান শাসিত আফগানিস্তানে মেয়েদের স্কুল বন্ধ থাকায় তার শিক্ষা আগেই ব্যাহত হয়েছিল। বর্তমানে অনিশ্চিত পরিস্থিতির চাপে মাত্র ১৪ বছর বয়সেই তাকে মানসিক চাপের ওষুধ খেতে হচ্ছে। এদিকে শরণার্থী পুনর্বাসন নিয়ে কাজ করা এনজিওগুলোর দাবি, এই যুদ্ধকালীন মিত্রদের কঙ্গোর মতো দেশে পাঠানো কোনো সমাধান হতে পারে না। এটি মূলত তাদের জোরপূর্বক আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানোর একটি কৌশল মাত্র, যেখানে গেলে তাদের তালেবানি প্রতিহিংসার মুখে পড়তে হতে পারে।
কাতারের ওই ক্যাম্পে বর্তমানে মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক অনুবাদক, স্পেশাল ফোর্সের সদস্য এবং ১৫০টিরও বেশি মার্কিন সামরিক পরিবারের সদস্যরা অবস্থান করছেন। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে ক্যাম্পের ওপর দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র উড়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে, যা শিশুদের মনে গভীর ভীতি সৃষ্টি করেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা সিএএস বাসিন্দাদের নিরাপত্তার স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছেন এবং তাদের তৃতীয় কোনো দেশে পুনর্বাসন একটি ইতিবাচক সমাধান হতে পারে। তবে জাহরার আকুল আবেদন আমেরিকার শীর্ষ মহলে কোনো পরিবর্তন আনে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
