যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য ‘হুমকি’ কিউবা: রুবিও

- Advertisements -

কিউবাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। একইসঙ্গে দুই দেশের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সমঝোতার সম্ভাবনা ‘খুব বেশি নেই’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি তাদের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

খবরে বলা হয়, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের জবাবে কিউবা অভিযোগ করেছে, ওয়াশিংটন ‘মিথ্যা’ তথ্য ছড়াচ্ছে এবং দ্বীপ রাষ্ট্রটির বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসনের পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করছে। দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই নতুন করে পাল্টাপাল্টি অভিযোগও সামনে এসেছে।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে ১৯৯৬ সালে দুটি বিমান ভূপাতিত করে মার্কিন নাগরিক হত্যার অভিযোগ আনার একদিন পর মার্কো রুবিওর এই বক্তব্য সামনে এলো।

Advertisements

রুবিও বলেন, ওয়াশিংটনের পছন্দ ‘কূটনৈতিক সমাধান’। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, দেশের বিরুদ্ধে যেকোনও হুমকি মোকাবিলার ‘অধিকার ও দায়িত্ব’ রয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। অন্যদিকে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ রুবিওর বিরুদ্ধে ‘মিথ্যাচারের’ অভিযোগ আনেন। তিনি বলেন, কিউবা কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি ছিল না।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রুবিও বলেন, ‘কিউবার ক্ষেত্রে কূটনীতিই এখনও আমাদের অগ্রাধিকার’। তবে তিনি বলেন, ‘আমি সৎভাবেই বলছি, বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা যাদের সঙ্গে কাজ করছি, তাতে এমন কিছু হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি নয়।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিউবা পুরো অঞ্চলের ‘সন্ত্রাসবাদের অন্যতম বড় পৃষ্ঠপোষক’। যদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া পোস্টে ব্রুনো রদ্রিগেজ এই অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করেন। কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাল্টা অভিযোগ করেন, রুবিও ‘সামরিক আগ্রাসন উসকে দেয়ার’ চেষ্টা করছেন এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকার ‘নির্দয় ও পরিকল্পিতভাবে’ তার দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের তেল অবরোধের কারণে কিউবা বর্তমানে তীব্র জ্বালানি সংকটে পড়েছে। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেশটির ওপর সমঝোতার চাপও বাড়ছে। গত কয়েক মাস ধরে দেশটির মানুষ দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা ও খাদ্য সংকটে ভুগছে।

Advertisements

রুবিও বলেন, কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের ১০ কোটি ডলারের মানবিক সহায়তা প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। অবশ্য ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার কিউবার ওপর চাপ বাড়ানোর কথা বলেছেন এবং প্রকাশ্যেই দেশটির কমিউনিস্ট সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রসঙ্গ তুলেছেন। গত বুধবার কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে অনেকে জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার মার্কিন পদক্ষেপের সঙ্গে তুলনা করছেন।

সাংবাদিকরা জানতে চান, কাস্ত্রোকে কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। জবাবে রুবিও বলেন, ‘আমরা কীভাবে তাকে এখানে আনব, সেটা আমি বলব না। যদি সত্যিই আনার চেষ্টা করি, তাহলে গণমাধ্যমকে কেন আমাদের পরিকল্পনা জানাব?’

প্রসঙ্গত, গত বুধবার মিয়ামিতে রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে অভিযোগ ঘোষণার সময় ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘আশা করে, তিনি নিজের ইচ্ছায় অথবা অন্য কোনও উপায়ে এখানে হাজির হবেন।’

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/1jbw
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন