যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় ইন্দোনেশিয়া তাদের জাতীয় বাজেট থেকে প্রায় ৮০ ট্রিলিয়ন রুপিয়াহ বা ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সাশ্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
শনিবার (২১ মার্চ) প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে দেশটির রাষ্ট্রপতির মুখপাত্র প্রাসেত্যো হাদি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটি বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের কারণে উদ্ভূত আর্থিক চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠতে অত্যন্ত কঠোরভাবে কাজ করছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইন্দোনেশিয়া সরকার এই বিশাল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় করে দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছে।
ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি প্রাবোও সুবিয়ান্তো বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ও বিশেষজ্ঞের সঙ্গে একটি ভিডিও সাক্ষাৎকারে অংশ নিয়ে বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরেন। তিনি জানান যে, তার সরকার বাজেট দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে যাতে ইরান যুদ্ধের ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল এবং তেলের বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব থেকে দেশের জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া যায়।
প্রাবোও জোর দিয়ে বলেন, এই সংকটময় মুহূর্তে সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ ছাঁটাই করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। তিনি মনে করেন, সঠিক সময়ে এই সাশ্রয়ী পদক্ষেপ না নিলে দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বর্তমানে ১ মার্কিন ডলারের বিপরীতে ১৬ হাজার ৯৭৫ ইন্দোনেশিয়ান রুপিয়াহ-এর হার অনুযায়ী এই সাশ্রয়ী পদক্ষেপটি দেশটির বার্ষিক বাজেটে একটি উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে জ্বালানি আমদানিতে ভর্তুকি বজায় রাখা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই বাড়তি তহবিলের প্রয়োজন হবে।
যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়তে থাকায় ইন্দোনেশিয়ার মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বাজেট ব্যবস্থাপনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই রাষ্ট্রপতি সুবিয়ান্তো সরাসরি এই সাশ্রয়ী নীতির তদারকি করছেন যাতে দেশের প্রবৃদ্ধির গতি থমকে না যায়।
আন্তর্জাতিক মহলে ইন্দোনেশিয়ার এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের প্রশংসা করা হচ্ছে, কারণ দেশটি শুরু থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ৮০ ট্রিলিয়ন রুপিয়াহ সাশ্রয় করার মাধ্যমে তারা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে পারবে।
এর মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়া কেবল নিজেদের অর্থনীতিকেই সুরক্ষিত করছে না, বরং একটি সম্ভাব্য বৈশ্বিক মন্দার মুখে নিজেদের প্রস্তুতিও জোরদার করছে। আপাতত দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় বিভিন্ন খাতের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো পুনর্বিন্যাস করার মাধ্যমে এই সাশ্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ শুরু করেছে।
