গরমের দিনে অনেকেই ঠান্ডা ও মিষ্টি কিছু খেতে পছন্দ করে। আর পায়েস তো এমনিতেই সবার প্রিয় মিষ্টান্ন। সেই চিরচেনা পায়েস যদি হয় লিচু দিয়ে তৈরি, তাহলে স্বাদ আর সতেজতায় যেন একেবারে নতুন মাত্রা যোগ করে। লিচুর পায়েস এক অনন্য স্বাদ তৈরি করে, যা গরমের ক্লান্তি মুহূর্তেই দূর করে দেয়। খুব সহজ ঘরেই বানানো যায় এই সুস্বাদু লিচুর পায়েস, যা পরিবারের সবাই পছন্দ করবে। তাই এবার বানিয়ে ফেলুন এই বিশেষ ডেজার্টটি।
আসুন জেনে নেওয়া যাক কীভাবে বাড়িতে লিচুর পায়েস তৈরি করবেন-
উপকরণ
- পাকা লিচু ১৫-২০টি
- চিনিগুঁড়া চাল ২ টেবিল চামচ
- দুধ ১ লিটার (ফুল ক্রিম)
- চিনি আধা কাপ
- কনডেন্সড মিল্ক ২ টেবিল চামচ
- গুঁড়া দুধ ২ টেবিল চামচ
- এলাচ গুঁড়া আধা চা চামচ
- বাদাম ও কিশমিশ সাজানোর জন্য
প্রস্তুত প্রণালি
চাল ভালো করে ধুয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। এরপর ভেজানো চাল ব্লেন্ডারে হালকা করে গুঁড়া করে নিন, যাতে কিছুটা মিহি গুঁড়া হয় আর কিছুটা খুদের মতো দানাও থেকে যায়। এই মিশ্রণই পায়েসের টেক্সচারকে আরও সুন্দর করে তুলবে।
এরপর লিচুগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার করে বীজ ছাড়িয়ে নিন। লিচুর অর্ধেক অংশ ছোট ছোট টুকরো করে কেটে আলাদা করে রাখুন, আর বাকি অর্ধেক ব্লেন্ডারে সামান্য পানি দিয়ে হালকা পিউরি তৈরি করুন। এবার চুলায় দুধ জ্বাল দিন। মাঝারি আঁচে ধীরে ধীরে দুধ ফুটতে দিন এবং নিয়মিত নাড়তে থাকুন, যাতে নিচে লেগে না যায়। দুধ কমে প্রায় অর্ধেক হয়ে এলে এতে চিনি দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন, যাতে চিনি পুরোপুরি গলে যায়।
- চিনি গলে গেলে আগে থেকে গুঁড়া করে রাখা চাল ধীরে ধীরে ঢেলে দ্রুত নাড়তে থাকুন, নাহলে দলা পাকিয়ে যেতে পারে। চাল মেশানোর পর পায়েস কিছুটা ঘন হয়ে আসবে। এরপর গুঁড়া দুধ এলাচ গুঁড়া দিয়ে ১ মিনিট নাড়ুন এবং চুলা বন্ধ করে দিন।
চুলা বন্ধ করার ঠিক আগে কনডেন্সড মিল্ক ও লিচুর পিউরি মিশিয়ে দিন, তারপর আবার ২ মিনিট হালকা করে নেড়ে নিন। এরপর কেটে রাখা লিচুর টুকরোগুলো যোগ করে আলতোভাবে মিশিয়ে নিন, যাতে ফলগুলো ভেঙে না যায়।
শেষে পায়েস চুলায় হালকা আঁচে আরও দুই থেকে তিন মিনিট রেখে নামিয়ে নিন। পছন্দমতো ড্রাই ফ্রুটস দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে ঠান্ডা করে রেফ্রিজারেটরে অন্তত দুই ঘণ্টা রাখুন। ঠান্ডা হলে লিচুর পায়েস পরিবেশন করুন।
