সকালে ঘুম থেকে উঠে আয়নায় চোখের নীচে ফোলাভাব বা ‘আই ব্যাগস’ দেখলে আমরা ধরে নিই রাতে ঠিকমতো ঘুম হয়নি। কিন্তু চিকিৎসকেরা বলছেন, সব আই ব্যাগসের কারণ শুধু এটা নয়। বেশি ঘুমোলেই যে এই ধরনের সমস্যা দূর হবে, এমনটাও নয়। সঠিক কারণ না জেনে যত্রতত্র আই ক্রিম বা ঘরোয়া টোটকা ব্যবহার করলে চোখের চারপাশের সংবেদনশীল ত্বকের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। কসমেটিক সার্জনরা বলছেন, চোখের নীচের এই পরিবর্তনের নেপথ্যে জিনগত গঠন থেকে শুরু করে বার্ধক্যজনিত শারীরিক পরিবর্তন এমন অনেক কারণ থাকতে পারে। তাই চিকিৎসা শুরু করার আগে সমস্যার আসল উৎস জানা জরুরি।
‘আই ব্যাগস’ কেন হয়?
চোখের নীচের অংশটি অত্যন্ত পাতলা এবং স্পর্শকাতর। চামড়ার তলায় পেশি এবং চর্বির স্তর থাকে। আই ব্যাগস মূলত দুই ধরণের হয়। যেমন:
১. অস্থায়ী ফোলা ভাব: এটি মূলত তরল জমা হওয়া, অ্যালার্জি, সাইনাসের সমস্যা, অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার খাওয়া, মদ্যপান বা ধূমপানের কারণে হয়।
২. কাঠামোগত পরিবর্তন: বয়সের সঙ্গে সঙ্গে চোখের নীচের পেশী ও লিগামেন্ট দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে চামড়ার তলায় থাকা চর্বি বা ফ্যাট পডস সামনের দিকে ঝুলে পড়ে। অনেকের আবার বংশগত বা জিনগত কারণেও এই ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে বয়স কোনও ফ্যাক্টর নয়।
ঘরোয়া প্রতিকা
কোল্ড কমপ্রেস: ঠান্ডা চামচ বা বরফ কাপড়ে মুড়িয়ে চোখের নীচে কয়েক মিনিট ধরে রাখলে সাময়িক ফোলা ভাব কমে।
ঘুমোনোর পজিশন: ঘুমানোর সময় মাথা সামান্য উঁচুতে রাখলে চোখের নীচে তরল জমতে পারে না।
লাইফস্টাইল সংশোধন: খাবারে লবণের পরিমাণ কমানো, পর্যাপ্ত জল পান এবং ধূমপান বর্জন করা।
সঠিক স্কিনকেয়ার: রেটিনয়েড ও ময়েশ্চারাইজ়ার ত্বকের ইলাস্টিসিটি বাড়ায়। তবে অতিরিক্ত কেমিক্যাল চোখের খুব কাছে গেলে আবার হিতে বিপরীত হতে পারে।
মেডিকেল চিকিৎসা
টিয়ার-থ্রু ফিলার: চোখের নীচে গভীর গর্ত থাকলে অনেক সময় আই ব্যাগস হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ফিলার দিয়ে তা ভরাট করে দেওয়া যেতে পারে।
লেজার ট্রিটমেন্ট: চামড়ার সামান্য শিথিলতা বা বলিরেখা দূর করতে স্কিন-টাইটেনিং লেজার ব্যবহার করা হয়।
লোয়ার ব্লেফারোপ্লাস্টি: চর্বি অতিরিক্ত ঝুলে পড়লে বা চামড়া আলগা হয়ে গেলে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অতিরিক্ত ফ্যাট বা চামড়া অপসারণ করা হয়, যা চোখে এনে দেয় এক সতেজ ও প্রাণবন্ত লুক।
