শীতকাল মানেই পায়েস থেকে গাজরের হালুয়া, মাখা সন্দেশ থেকে পাটিসাপটা— ঘরে ঘরে চলে বাহারি স্বাদের মিষ্টি বানানোর পর্ব। আর মিষ্টি মানেই তো তাতে চিনি না দিলেই নয়। অথচ চিনি নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। মিষ্টি এ উপাদানটি নাকি মোটেই উপকারী নয়, বলছেন চিকিৎসক থেকে পুষ্টিবিদেরা।
তাদের পরামর্শ, সুস্থ থাকতে যথাসম্ভব কমিয়ে ফেলতে হবে চিনি খাওয়া। কারণ, সাদা চিনি শুধু ক্যালোরিই বাড়িয়ে দেয়। গুণের ছিটেফোঁটাও নেই এতে। সাদা চিনি রক্তে শর্করার মাত্রা এক লাফে অনেকটা বাড়িয়ে দেয়। ওজন বেড়ে যাওয়ার নেপথ্যে সবচেয়ে বড় কারণ হল সাদা চিনি। শুধু তাই নয়, চিনি থেকে বাড়তে পারে ক্যানসারের ঝুঁকিও।
ঠিক সেই কারণে সাদা চিনি এড়িয়ে চলেন খেলোয়াড় থেকে বি-টাউনের বহু অভিনেতা-অভিনেত্রীই। কিন্তু চা থেকে কফি, তরকারি থেকে চাটনি— চিনি ছাড়া স্বাদ হবে কি? স্বাস্থ্যকর বিকল্প খুঁজতে গিয়ে হিমশিম খান অনেকেই। সম্প্রতি তেমনই কিছু স্বাস্থ্যকর বিকল্পের হদিস দিলেন রায়পুর নিবাসী ক্যানসারের চিকিৎসক জয়েশ শর্মা।
গুড় ও মধু
প্রাকৃতিক বলে অনেকে এগুলিকে স্বাস্থ্যকর মনে করলেও এগুলি আদতে চিনির মতোই শরীরের ক্ষতি করে। চিকিৎসকের মতে, এগুলি প্রক্রিয়াজাত নয়, এগুলিতে সামান্য মাত্রায় খনিজও থাকে, তবুও কিন্তু শরীরের ক্ষতিই করে। এগুলিতে ক্যালোরির মাত্রা প্রায় সাদা চিনির কাছাকাছি। ফলে এগুলি রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি করে। প্রাকৃতিক বলেই যে স্বাস্থ্যকর হবে, এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই।
কৃত্রিম চিনি
স্যাকারিন, অ্যাসপারটেমের মতো বাজারে নানা প্রকার কৃত্রিম চিনি পাওয়া যায়। চিকিৎসকের মতে, এগুলির কোনোটাই খুব বেশি টক্সিক নয় বা এগুলি থেকে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এগুলিতে ক্যালোরির মানও সাধারণ চিনির তুলনায় অনেকটাই কম। তবে এগুলি পেটের উপকারী ব্যাক্টেরিয়াগুলির ওপর প্রভাব ফেলে, ফলে পেটের সমস্যা হতে পারে। এ প্রকার চিনি খেলে অনেকের আবার খিদে বেড়ে যায়। তাই ওজন ঝরাতে যে কৃত্রিম চিনি খুব কার্যকর, তা বলা যায় না।
সুক্রালোজ ও ইরিথ্রিটল
বাজারে চিনি ছাড়া তৈরি যে সব মিষ্টি, নরম পানীয়, ক্যান্ডি পাওয়া যায়, তাতে মিষ্টি ভাব আনতে ব্যবহার করা হয় সুক্রালোজ ও ইরিথ্রিটলের মতো উপাদান। এগুলি খেতে চিনির মতোই মিষ্টি। এগুলিতে ক্যালোরি প্রায় থাকে না বললেই চলে। এগুলি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা এক লাফে অনেকটা বেড়েও যায় না।
স্টিভিয়া
চিকিৎসকের মতে চিনির সবচেয়ে ভালো বিকল্প হল স্টিভিয়া। এতে ক্যালোরি প্রায় শূন্য। রক্তের সঙ্গে মিশে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয় না। উদ্ভিজ্জ এ বিকল্পটি স্বাদে হালকা তিতকুটে হলেও রান্নায় ব্যবহার করলে তা বোঝা যায় না।
