English

21.1 C
Dhaka
সোমবার, জানুয়ারি ১৯, ২০২৬
- Advertisement -

রক্তচাপে চোখের গুরুতর ক্ষতি হতে পারে

- Advertisements -
ডা. মো. ছায়েদুল হক: মানবদেহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটির নাম হলো চোখ। অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ চোখের মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে শরীরের সূক্ষ্ম রক্তনালিতে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতের সৃষ্টি হয়। অনেক ক্ষেত্রে এসব রক্তনালি সংকুচিত বা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ফলে রক্তপ্রবাহ ব্যাহত হতে পারে। এই অবস্থাকে বলা হয় উচ্চ রক্তচাপজনিত রেটিনোপ্যাথি বা হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথি। উচ্চ রক্তচাপের প্রভাবে শরীরের চারটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ- হৃদযন্ত্র, মস্তিষ্ক, কিডনি ও চোখ বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। গঠনগত দিক থেকে চোখ মস্তিষ্কের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত। চোখের স্নায়ুগুলো সরাসরি মস্তিষ্কের সঙ্গে সংযুক্ত থাকায় উচ্চ রক্তচাপজনিত জটিলতার প্রভাব চোখে দ্রুত প্রতিফলিত হয়। আবার উচ্চ রক্তচাপের কারণে মস্তিষ্কে স্ট্রোক বা রক্তক্ষরণ হলে তার প্রভাবও চোখে দেখা দিতে পারে।

চোখের রেটিনা ও অপটিক নার্ভে অসংখ্য সূক্ষ্ম রক্তনালি রয়েছে। দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপে এসব রক্তনালিতে ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং অনেক সময় নালিগুলো বন্ধ হয়ে যায়। ফলে রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হয়ে রেটিনা ও নার্ভের স্নায়ুকোষগুলো ধীরে ধীরে নষ্ট হতে থাকে। এর ফল হিসেবে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, চোখের ভেতর রক্তক্ষরণ (ইন্ট্রাওকুলার হিমোরেজ) এবং শেষ পর্যন্ত স্থায়ী দৃষ্টিহানির আশঙ্কা দেখা দেয়।

Advertisements

মস্তিষ্কের স্ট্রোক ও চোখ : মস্তিষ্কে স্ট্রোক হলে চোখের পেশি নিয়ন্ত্রণকারী ক্রেনিয়াল নার্ভ আক্রান্ত হতে পারে। এর ফলে চোখের পেশির ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং চোখ বাঁকা বা ট্যারা হয়ে যেতে পারে। এতে রোগী একটি বস্তুকে দুটি দেখতে পারেন, যাকে বলা হয় ডাবল ভিশন বা ডিপ্লোপিয়া। এ অবস্থাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বলা হয় প্যারালাইটিক স্কুইন্ট। অনেক সময় স্ট্রোক খুব মৃদু হওয়ায় বড় ধরনের প্যারালাইসিস দেখা যায় না এবং বিষয়টি নজরের বাইরে থেকে যায়। অনেক রোগী জানতেই পারেন না যে, তিনি উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। এ ক্ষেত্রে হঠাৎ ডাবল ভিশন বা প্যারালাইটিক স্কুইন্ট দেখা দিলে পূর্ববর্তী স্ট্রোকের ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে। উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে যদি ডায়াবেটিস, উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল বা ক্ষতিকর চর্বি, হৃদরোগ, স্থূলতা, ধূমপান, অ্যালকোহল আসক্তি কিংবা অতিরিক্ত মানসিক চাপযুক্ত জীবনযাপন যুক্ত থাকে, তবে হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথি ও প্যারালাইটিক স্কুইন্টের ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যায়। এগুলোকে বলা হয় রিস্ক ফ্যাক্টর।

সতর্কতা, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা : যাদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তাদের বছরে অন্তত এক থেকে দুবার অবশ্যই চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে চোখ পরীক্ষা করানো উচিত। নিয়মিত কায়িক শ্রম বা ব্যায়াম করা, ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার করা, শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, খাবারে অতিরিক্ত লবণ ও তেল, বিশেষ করে ট্রান্সফ্যাট- এড়িয়ে চলা এবং সর্বোপরি সুশৃঙ্খল জীবনযাপন উচ্চ রক্তচাপজনিত চোখের জটিলতা অনেকাংশে প্রতিরোধ করতে পারে। চোখ মানুষের জীবনের অমূল্য সম্পদ। তাই সময়মতো সচেতনতা, যথাযথ যত্ন ও সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে এ সম্পদ রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।

লেখক : অধ্যাপক ও চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ সার্জন এবং

Advertisements

ভাইস প্রিন্সিপাল, মার্কস মেডিক্যাল কলেজ, মিরপুর-১৪, ঢাকা

সিনিয়র কনসালট্যান্ট, আইডিয়াল আই কেয়ার সেন্টার

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/wzzf
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন