English

26 C
Dhaka
রবিবার, মার্চ ১, ২০২৬
- Advertisement -

রোজায় মাংসপেশি ও অস্থিসন্ধির সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে করণীয়

- Advertisements -
ডা. এম ইয়াছিন আলী: রমজান মাস মুসলমানদের জন্য সংযম ও ইবাদতের মাস। তবে ইবাদত যথাযথভাবে পালনের জন্য সুস্থ থাকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নামাজের রুকু, সিজদা, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা কিংবা মেঝেতে বসা-ওঠার মতো ভঙ্গিগুলো সঠিকভাবে সম্পাদনের জন্য শরীরের জয়েন্ট, মাংসপেশি ও ভারসাম্য স্বাভাবিক থাকা জরুরি। এ ক্ষেত্রে রমজান চলাকালে নিয়মিত ব্যায়াম ও ফিজিওথেরাপির ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড়, মাংসপেশি ও অস্থিসন্ধিজনিত (জয়েন্ট) সমস্যা বৃদ্ধি পায়। দেশের প্রবীণ জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ কোমর, হাঁটু ও নিচের পিঠের ব্যথায় ভোগেন। প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কোনো না কোনো মাংসপেশি বা জয়েন্ট সমস্যায় আক্রান্ত, যা তাদের দৈনন্দিন কাজকর্মে বিঘ্ন ঘটায়।

Advertisements

অস্টিওআর্থ্রাইটিস, স্পন্ডাইলোসিস কিংবা দীর্ঘমেয়াদি কোমর-ব্যথার মতো সমস্যায় হাঁটু ও কোমরের নড়াচড়া সীমিত হয়ে যায়। ফলে অনেকেই নামাজের রুকু বা সিজদায় যেতে কষ্ট পান, আবার কেউ কেউ মেঝেতে বসা-ওঠায় অস্বস্তি অনুভব করেন। কেবল ব্যথানাশক ওষুধে সাময়িক উপশম মিললেও স্থায়ী সমাধান আসে না, যদি না জয়েন্টের গতিশীলতা, মাংসপেশির শক্তি ও শরীরের ভারসাম্য উন্নত করা হয়।

এ ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি একটি কার্যকর পদ্ধতি। ফিজিওথেরাপি শুধু ব্যথা কমায় না, বরং শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করে। নিয়মিত থেরাপিউটিক এক্সারসাইজ, স্ট্রেচিং, শক্তিবর্ধক ব্যায়াম এবং কোর স্ট্যাবিলিটি ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে হাঁটাচলা, সিঁড়ি ওঠানামা, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা ও নামাজ আদায়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি সঠিক দেহভঙ্গি ও জীবনধারা সম্পর্কে পরামর্শ রোগীর দীর্ঘমেয়াদি উপকারে আসে।

রমজানের সময় দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে ও পানি পান না করে থাকার কারণে শরীরে সাময়িক ক্লান্তি বা পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। যাদের আগে থেকেই জয়েন্ট বা মাংসপেশির সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই শারীরিক চাপ আরও স্পষ্ট হতে পারে। তাই ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে এবং পুষ্টিকর খাবার, বিশেষ করে ক্যালসিয়াম ও আমিষসমৃদ্ধ খাদ্যগ্রহণ করতে হবে।

যাদের ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি, তাদের ডালের তৈরি পেঁয়াজু, বেসন, ছোলা, চটপটি ইত্যাদি খাবার পরিহার করা উচিত। প্রয়োজনে বিকল্প আমিষ গ্রহণ করতে হবে। ইফতারের পর হালকা ব্যায়াম ও হাঁটাহাঁটি উপকারী; এতে হাড় ও অস্থিসন্ধি সচল থাকে। প্রয়োজন হলে ব্যথা ও জড়তা কমাতে গরম সেঁক নেওয়া যেতে পারে। যাদের হাঁটু ভাঁজ করতে সমস্যা হয়, তারা চেয়ারে বসে ইবাদত করতে পারেন। ব্যথা বাড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যথানাশক গ্রহণ করা উচিত।

Advertisements

বয়স্ক ব্যক্তি, অতিরিক্ত ওজনের মানুষ কিংবা যারা দীর্ঘদিন ধরে হাঁটু বা কোমর-ব্যথায় ভুগছেন, রমজান চলাকালে তাদের বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। একজন অভিজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্ট সঠিকভাবে সমস্যার মূল্যায়ন করে উপযুক্ত চিকিৎসা ও ব্যায়াম পরিকল্পনা নির্ধারণ করতে পারেন।

লেখক : চেয়ারম্যান ও চিফ কনসালট্যান্ট

ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতাল, ধানমন্ডি, ঢাকা

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/5hpg
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ

বগুড়া শহরে ব্যবসায়ী খুন

- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন