শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য এবং অভিভাবকের করণীয়

- Advertisements -
ডা. সুরাইয়া বেগম: শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য একটি সাধারণ সমস্যা। প্রায় ৩০ শতাংশ শিশুর মধ্যে এ সমস্যা দেখা যায়। মাতৃদুগ্ধ পানকারী শিশুদের ক্ষেত্রে সপ্তাহে অন্তত একবার এবং অন্যান্য শিশুর ক্ষেত্রে প্রতি দুই থেকে তিন দিনে একবার মলত্যাগ স্বাভাবিক হিসেবে ধরা হয়। কোষ্ঠকাঠিন্য সাধারণত দুই ধরনের- ফাংশনাল ও অর্গানিক। প্রায় ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রে ফাংশনাল কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা যায়, যেখানে কোনো মেডিক্যাল বা সার্জিক্যাল কারণ থাকে না।

ফাংশনাল কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে- শিশুর শক্ত খাবার শুরু করার পর সমস্যা দেখা দেওয়া, আঁশযুক্ত খাবার, যেমন- ফলমূল ও শাকসবজি কম খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান না করা, ফাস্টফুড ও অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ, সঠিক টয়লেট প্রশিক্ষণের অভাব, উপযুক্ত টয়লেটের ব্যবস্থা না থাকা এবং আয়রন বা ক্যালসিয়ামজাতীয় ওষুধ সেবন। অন্যদিকে অর্গানিক কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ হতে পারে হাইপোথাইরয়েডিজম, হাইপারক্যালসেমিয়া, সিস্টিক ফাইব্রোসিস, হার্শস্প্রুং ডিজিজ কিংবা পরিপাকতন্ত্র বা মেরুদণ্ডের জন্মগত ত্রুটি।

শুরুতে শিশুরা মল আটকে রাখে। ফলে মল ধীরে ধীরে শক্ত হয়ে যায় এবং পেটে জমতে থাকে। পরে শক্ত মল ত্যাগের সময় মলদ্বার ফেটে যেতে পারে, যা শিশুর মধ্যে ভয় তৈরি করে। ফলে সে মলত্যাগ এড়িয়ে চলতে চায় এবং দীর্ঘমেয়াদি কোষ্ঠকাঠিন্য তৈরি হয়।

শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্যের সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে- সপ্তাহে তিনবারের কম মলত্যাগ, শক্ত ও শুষ্ক মল, মলত্যাগের সময় ব্যথা অনুভব করা, পেট ফেঁপে যাওয়া এবং পেট বা মলদ্বারে শক্ত মলের উপস্থিতি। এক বছরের কম বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে গত এক মাসে এবং এক বছরের বেশি বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে গত দুই মাসে এ ধরনের দুই বা ততোধিক সমস্যা থাকলে তাকে ফাংশনাল কোষ্ঠকাঠিন্য বলা হয়।

Advertisements

কোষ্ঠকাঠিন্যের সঙ্গে প্রস্রাবের সংক্রমণেরও সম্পর্ক রয়েছে। ফলে প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে কিছু বিপজ্জনক লক্ষণ রয়েছে, যেগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। যেমন- শিশুর বয়স ৬ সপ্তাহের কম হওয়া, জন্মের ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেও কালো পায়খানা না হওয়া, ওজন কমে যাওয়া, ঘন ঘন বমি হওয়া, পেটে চাকা অনুভব হওয়া, অতিরিক্ত পেট ফেঁপে যাওয়া কিংবা মলে রক্ত দেখা দেওয়া।

শিশুদের কোষ্ঠকাঠিন্যের চিকিৎসায় আঁশযুক্ত খাবার যেমন ফলমূল ও শাকসবজি খাওয়ানো, পর্যাপ্ত পানি পান করানো, খেলাধুলায় উৎসাহ দেওয়া এবং নিয়মিত টয়লেট প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। খাবার গ্রহণের আধা ঘণ্টার মধ্যে প্রতিদিন শিশুকে টয়লেটে বসানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী মল নরম করার ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে।

কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সুষম খাদ্য গ্রহণ, পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত খেলাধুলা এবং টয়লেটের সঠিক অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।

মনে রাখতে হবে, শিশুদের কোষ্ঠকাঠিন্য সাধারণ হলেও এটি দীর্ঘস্থায়ী হলে বা বিপজ্জনক লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

Advertisements

লেখক : অধ্যাপক এবং শিশু এন্ডোক্রাইনোলজি বিশেষজ্ঞ

চেম্বার : আলোক মাদার অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার, মিরপুর-৬, ঢাকা

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/ywrm
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন