English

26 C
Dhaka
বৃহস্পতিবার, মার্চ ১২, ২০২৬
- Advertisement -

ঘুমের মধ্যে বালিশে লালা ঝরা হতে পারে গুরুতর শারীরিক সমস্যার পূর্বাভাস

- Advertisements -

সকালে ঘুম থেকে উঠে বালিশে লালা ভেজা দাগ দেখা অনেকের কাছেই বিব্রতকর মনে হতে পারে। সাময়িকভাবে ক্লান্তি বা গভীর ঘুমের কারণে এমনটি হওয়া স্বাভাবিক হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি যদি নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয় তবে তা মোটেও হেলাফেলার বিষয় নয়।

শিকাগোর নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি ফেইনবার্গ স্কুল অব মেডিসিনের বিশেষজ্ঞ ডা. ল্যান্ডন ডুইকার মতে, হুট করে যদি কেউ লক্ষ করেন যে প্রতি রাতেই তার বালিশ লালায় ভিজে যাচ্ছে, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ, এটি কেবল সাধারণ কোনো অভ্যাসের ফল নয়, বরং স্লিপ অ্যাপনিয়া বা পার্কিনসনের মতো স্নায়বিক রোগের প্রাথমিক উপসর্গও হতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, ঘুমের মধ্যে লালা ঝরার অন্যতম বিপজ্জনক কারণ হতে পারে ‌‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’। এই সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা ঘুমের মধ্যে বারবার শ্বাস নিতে বাধা পান, ফলে শরীর অতিরিক্ত অক্সিজেনের জন্য মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে বাধ্য হয়। আর মুখ খোলা থাকলেই লালা সহজেই বাইরে বেরিয়ে বালিশ ভিজিয়ে দেয়।

আমেরিকান একাডেমি অব স্লিপ মেডিসিনের তথ্যমতে, লক্ষ লক্ষ মানুষ এই সমস্যায় ভুগলেও তাদের বড় একটি অংশই রয়ে গেছেন রোগ নির্ণয়ের বাইরে। সঠিক চিকিৎসা না হলে এটি হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এমনকি অকাল মৃত্যুর ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিতে পারে। এ ছাড়া নাকের ভেতরে হাড় বাঁকা থাকা বা জন্মগতভাবে নাসারন্ধ্র সরু হওয়ার কারণে যারা মুখ দিয়ে শ্বাস নেন, তাদের ক্ষেত্রেও লালা ঝরার প্রবণতা বেশি দেখা যায়।

শারীরিক অন্যান্য সমস্যার মধ্যে অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যাও একটি বড় কারণ। পাকস্থলীর অ্যাসিড যখন খাদ্যনালিতে ফিরে আসে, তখন শরীর প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে অতিরিক্ত লালা তৈরি করে। ফলে সকালে ঘুম থেকে উঠে গলা ভারী বা মিউকাসে পূর্ণ মনে হতে পারে। এ ছাড়া দাঁত কিড়মিড় করা, টনসিল বা সাইনাস ইনফেকশন এবং সাধারণ অ্যালার্জিজনিত কারণে নাক বন্ধ থাকলেও মুখ দিয়ে লালা বের হতে পারে। এমনকি বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে গলার মাংসপেশির শিথিলতা বা কোনো স্নায়বিক রোগের প্রভাবে খাবার গেলার ক্ষমতা কমে যাওয়ার প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবেও ঘুমের মধ্যে লালা ঝরতে দেখা যায়।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, লালা ঝরার কারণ নির্ণয়ে ঘরোয়াভাবে ‘স্লিপ স্টাডি’ বা ঘুম পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে। শোয়ার ধরন পরিবর্তন করে বা চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ সেবন করে অনেক সময় এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তবে যদি লালা ঝরার সঙ্গে বিকেলের দিকে প্রচণ্ড ক্লান্তি, সকালে মাথাব্যথা কিংবা কোনো কিছু গিলতে অসুবিধা হওয়ার মতো লক্ষণ থাকে, তবে দেরি না করে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/ua7m
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন