ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু: চোখে আঘাত বিভিন্ন কারণে হতে পারে, যার মধ্যে কেমিক্যালজনিত আঘাত অন্যতম। বিশ্বব্যাপী চোখের আঘাতের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ কেমিক্যালের কারণে ঘটে এবং এটি কর্মক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়।
চোখের জন্য ক্ষতিকর কেমিক্যাল সাধারণত তিন ধরনের হয়– ক্ষার, অম্ল ও ইরিটেন্ট। ক্ষারজাতীয় কেমিক্যাল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর। কারণ, এটি চোখের ভেতরের অংশ পর্যন্ত ক্ষতি করতে পারে এবং অন্ধত্বের ঝুঁকি বাড়ায়। অম্ল তুলনামূলক কম ক্ষতিকর হলেও তা চোখের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। ইরিটেন্ট ধরনের কেমিক্যাল চোখে জ্বালা ও অস্বস্তি সৃষ্টি করে।
চোখে কেমিক্যাল পড়লে চোখ লাল হয়ে যাওয়া, ব্যথা, জ্বালাপোড়া, পানি পড়া, চোখে খচখচ ভাব, পাতা ফুলে যাওয়া এবং দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা যায়।
অবস্থায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া। চোখে কেমিক্যাল পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ১০ থেকে ১৫ মিনিট ধরে পরিষ্কার পানি দিয়ে চোখ ধুতে হবে। এতে কেমিক্যাল ধুয়ে বের হয়ে যায় এবং ক্ষতির পরিমাণ কমে।
চোখ ডলাডলি করা যাবে না, কারণ এতে ক্ষতি বাড়তে পারে। অনেকেই গরম কাপড় দিয়ে সেঁক দেন, যা সম্পূর্ণ ভুল পদ্ধতি।
প্রাথমিকভাবে পানি দিয়ে ধোয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। কারণ, বাহ্যিকভাবে ছোট মনে হলেও ভেতরে গুরুতর ক্ষতি হতে পারে।
চোখে কেমিক্যালজনিত আঘাত প্রতিরোধের জন্য কাজের সময় সুরক্ষামূলক চশমা ব্যবহার করা এবং কেমিক্যাল শিশুদের নাগালের বাইরে রাখা জরুরি। সচেতনতা থাকলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব।
লেখক: বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।
