দুধ চা শুধু শরীর নয়, মনের স্বাস্থ্যও নষ্ট করে

- Advertisements -

চায়ের কড়া লিকার, ঘন দুধ, সঙ্গে দু চা চামচ চিনি মিশিয়ে যে পানীয়টি তৈরি হয় তা যেন অনেকের কাছে স্বর্গীয় স্বাদ।সকালের নাস্তায়, অফিসে কাজের ফাঁকে, বিকেলের আড্ডায় সবমিলিয়ে ৭-৮ কাপ দুধ চা খান অনেকে। আবার রাতের খাবারের পর আয়েশ করে এক কাপ কড়া দুধ চা না খেলে যেন অনেকের ঘুমই আসে না। কিন্তু মনের শান্তির জন্য দুধ চা খেয়ে শরীরের মারাত্মক ক্ষতি করছেন না তো! সেই সঙ্গে মনের স্বাস্থ্যএরও বারোটা বাজিয়ে দিচ্ছেন। এমনটাই বলছে গবেষণা।

যে দুধ চা আপনার সারাদিনের কাজের কিংবা অবসরের রিফ্রেশমেন্টের সঙ্গী সেই দুধ চা খেয়েই ক্ষতি করছেন শরীর ও মনের। বারবার চা খেয়ে মুহূর্তের জন্য ভালো লাগলেও বিষয়টা আদতে এতটা সরল নয়। দুধ চায়ের সঙ্গে মনের নানা সূক্ষ্ম পরিবর্তনের সম্পর্ক থাকতে পারে, বিশেষ করে যখন এটি অভ্যাসের সীমা ছাড়িয়ে নির্ভরতায় রূপ নেয়। অনেকেই খেয়াল করেন না, কিন্তু দিনে বারবার দুধ চা খাওয়ার প্রবণতা ধীরে ধীরে এক ধরনের মানসিক নির্ভরশীলতা তৈরি করতে পারে।

রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়ায়

দুধ চা সাধারণত চিনি দিয়েই খাওয়া হয়, আর এই চিনিই সমস্যার একটি বড় উৎস। চিনি দ্রুত রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, ফলে সাময়িকভাবে শক্তি ও ভালো লাগার অনুভূতি তৈরি হয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই সেই গ্লুকোজের মাত্রা হঠাৎ কমে যায়। এই ওঠানামার সময়েই অনেকের মধ্যে খারাপ লাগা, অস্থিরতা বা মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। তখন আবার এক কাপ দুধ চায়ের প্রতি তীব্র আকর্ষণ তৈরি হয় একটি চক্র তৈরি হয়, যা অনেকটা নেশার মতোই আচরণ করতে পারে।

Advertisements

মানসিক অস্থিরতা তৈরি করে

এই নির্ভরতার বিষয়টি শুধু অভ্যাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং আবেগ নিয়ন্ত্রণের সঙ্গেও জড়িয়ে যেতে পারে। কোনো ব্যক্তি যদি বারবার খারাপ লাগা, ক্লান্তি বা মানসিক চাপ কাটাতে দুধ চায়ের ওপর নির্ভর করতে শুরু করেন, তাহলে ধীরে ধীরে তার স্বাভাবিক আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ, তিনি নিজে থেকে অনুভূতি সামলানোর বদলে একটি বাহ্যিক উদ্দীপকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। দীর্ঘমেয়াদে এটি মানসিক স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

গবেষণা কী বলছে

এ বিষয়ে গবেষণাও কিছু সতর্কবার্তা দিয়েছে। বেইজিংয়ের ৫ হাজার ২৮১ জন কলেজ শিক্ষার্থীর ওপর করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত দুধ চা গ্রহণের সঙ্গে হতাশা, দুশ্চিন্তা এবং এমনকি আত্মহত্যার চিন্তারও সম্পর্ক পাওয়া গেছে। ২০২৩ সালে ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর এফেক্টিভ ডিজঅর্ডারস-এর জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণাটি সরাসরি কারণ-প্রভাব প্রমাণ না করলেও একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়, বিশেষ করে যারা নিয়মিত ও বেশি পরিমাণে দুধ চা পান করেন, তাদের মধ্যে মানসিক সমস্যার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে।

Advertisements

এর পেছনে আরও কিছু শারীরবৃত্তীয় কারণও কাজ করে। দুধ চায়ের ক্যাফেইন মস্তিষ্কে ডোপামিন নিঃসরণে সাময়িক প্রভাব ফেলে, যা ভালো লাগার অনুভূতি তৈরি করে। কিন্তু এই প্রভাব স্থায়ী নয়। বারবার এই অনুভূতি পেতে গেলে শরীর ধীরে ধীরে সেই উদ্দীপকের প্রতি সহনশীল হয়ে ওঠে, ফলে আগের মতো ভালো লাগা পেতে আরও বেশি চা প্রয়োজন হয়। এই প্রক্রিয়াটিই নির্ভরতার ঝুঁকি বাড়ায়।

তবে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার রাখা জরুরি দুধ চা নিজে কোনো ‘মারাত্মক মানসিক রোগের সরাসরি কারণ’ নয়। বরং অতিরিক্ত গ্রহণ, অনিয়ন্ত্রিত অভ্যাস এবং আবেগ সামলাতে এর ওপর নির্ভরতা এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে মিলেই ঝুঁকি তৈরি করে। অর্থাৎ, সমস্যা পানীয়তে যতটা, তার চেয়ে বেশি আমাদের ব্যবহারের ধরনে।

তাই সচেতনতা জরুরি। দিনে কত কাপ চা খাচ্ছেন, কেন খাচ্ছেন ক্লান্তি দূর করতে, নাকি খারাপ লাগা ঢাকতে এই প্রশ্নগুলো নিজের কাছে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। বিকল্প হিসেবে পানি, লেবু চা বা ক্যাফেইন কম পানীয় বেছে নেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে মানসিক চাপ বা খারাপ লাগা মোকাবিলায় ঘুম, ব্যায়াম, কথা বলা বা অন্য স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলাও সমান প্রয়োজন।

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/gbha
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন