দুপুরে অল্প সময়ের ঘুম বা ন্যাপ মস্তিষ্ককে নতুন করে সতেজ করতে পারে এবং শেখার জন্য আবার প্রস্তুত করে। নতুন এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। এত দিন এই উপকারিতা মূলত রাতের পূর্ণ ঘুমের ক্ষেত্রেই জানা ছিল।
জার্মানির ফ্রাইবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয় এবং সুইজারল্যান্ডের জেনেভা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা জানিয়েছেন, দুপুরে অল্প সময়ের ঘুমও স্নায়ুকোষগুলোর (নার্ভ সেল) মধ্যে সংযোগ নতুনভাবে সাজাতে পারে। এর ফলে মস্তিষ্ক নতুন তথ্য আরও ভালোভাবে সংরক্ষণ করতে পারে।
গবেষকেরা ব্যাখ্যা করেন, দিনের বেলায় মস্তিষ্ক সব সময় সক্রিয় থাকে। নতুন অভিজ্ঞতা, চিন্তা ও তথ্য প্রক্রিয়াজাত করতে গিয়ে স্নায়ুকোষগুলোর সংযোগ শক্তিশালী হয়। এই শক্তিশালী সংযোগ শেখার জন্য জরুরি হলেও অতিরিক্ত হলে মস্তিষ্ক এক ধরনের ক্লান্ত অবস্থায় পৌঁছে যায়। তখন নতুন কিছু শেখার ক্ষমতা কমে যায়।
ঘুম এই অতিরিক্ত সক্রিয়তা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নষ্ট না করেই মস্তিষ্ক আবার ভারসাম্যে ফিরে আসে বলে গবেষকেরা জানান।
গবেষণার প্রধান গবেষক ড. ক্রিস্টফ নিসেন বলেন, আমাদের গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু দুপুরের একটি ছোট ঘুমেই এই ‘সিন্যাপটিক রিসেট’ (স্নায়ু-সংযোগের ভারসাম্য পুনর্গঠন) সম্ভব। এতে নতুন স্মৃতি গঠনের জন্য জায়গা তৈরি হয়। তিনি আরও বলেন, স্বল্প সময়ের ঘুমও নতুন তথ্য গ্রহণের ক্ষমতা বাড়ায়।
এই গবেষণায় ২০ জন সুস্থ তরুণ-তরুণী অংশ নেন। তারা দুইটি বিকালে দুই ধরনের অবস্থায় ছিলেন—একদিন গড়ে ৪৫ মিনিট ঘুমিয়েছেন, আরেকদিন একই সময় জেগে ছিলেন।
গবেষণার ফল জানার জন্য বিজ্ঞানীরা টিএমএস (Transcranial Magnetic Stimulation—চুম্বকীয় তরঙ্গ দিয়ে মস্তিষ্কের কার্যকলাপ পরিমাপ) এবং ইইজি (EEG—মস্তিষ্কের বৈদ্যুতিক সংকেত মাপার পদ্ধতি) ব্যবহার করেন। এগুলো শরীরের ভেতরে কোনো ক্ষতি না করেই পরীক্ষা করা যায়।
ফলাফলে দেখা যায়, ন্যাপের পর মস্তিষ্কের স্নায়ু-সংযোগের সামগ্রিক শক্তি কিছুটা কমে যায়, যা ঘুমের পুনরুদ্ধারকারী প্রভাবের ইঙ্গিত। একই সঙ্গে নতুন সংযোগ তৈরির ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। অর্থাৎ, জেগে থাকার তুলনায় ন্যাপের পর মস্তিষ্ক নতুন কিছু শেখার জন্য বেশি প্রস্তুত থাকে।
গবেষণাটি বিজ্ঞান সাময়িকী নিউরোইমেজ-এ প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকেরা বলেন, এই ফলাফল প্রমাণ করে—রাতের ঘুমের পাশাপাশি দুপুরের ছোট্ট ঘুমও মস্তিষ্কের জন্য উপকারী এবং শেখার ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
