রোজায় দীর্ঘসময় খাওয়া দাওয়া, পানি পান থেকে বিরত থাকা হয়। এর প্রভাব শরীর ও ত্বকে পড়ে। অনেকের ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। তাই ইফতার ও সেহেরিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে। অর্থাৎ প্রতিদিন অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করার চেষ্টা করুন। খাদ্য তালিকায় পানিসমৃদ্ধ খাবার যেমন ডাবের পানি, লাচ্ছি, সবজি স্যুপ ও দই রাখতে পারেন। অতিরিক্ত ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় থেকে দূরে থাকুন। কারণ ক্যাফেইন শরীরের পানিশূন্যতা বাড়াতে পারে।
যেভাবে ত্বকের যত্ন নেবেন
আবহাওয়ার উষ্ণতা ও আর্দ্রতার তারতম্যের কারণে ত্বক সহজেই ময়লা হয়। ত্বকে ব্যাকটেরিয়া জমে। ময়লা জমে পোরস বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা ব্রণ বা র্যাইশের কারণ হতে পারে। ত্বক ভালো রাখতে সঠিক ক্লিনজার বেছে নিন। দিনে দুই বার মুখ ক্লিনজারের সাহায্যে পরিষ্কার করুন। এরপর ত্বকের ধরন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। শুষ্ক ত্বকের জন্য ক্রিম বা তেলভিত্তিক ময়েশ্চারাইজার এবং তৈলাক্ত ত্বকের জন্য হালকা, ওয়াটারবেসড বা জেল ধরনের ময়েশ্চারাইজার বেশি উপযোগী। রোদে বের হলে অন্তত এসপিএফ ৩০ বা ৫০ যুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।
শুষ্ক ত্বকে এক্সফোলিয়েটিং জরুরি। এটি বন্ধ লোমকূপ পরিষ্কার, ত্বককে মসৃণ এবং আরও উজ্জ্বল করে। ত্বকের রক্ত চলাচল বাড়ায় এক্সফোলিয়েটিং। সপ্তাহে একবার বা দুবার এক্সফোলিয়েটিং জেল ব্যবহার করার পরামর্শ দেন ডার্মাটোলজিস্টরা।
ঘরোয়া ফেসপ্যাক
রোজায় ত্বককে ভেতর থেকে হাইড্রেট রাখতে দুই চামচ দইয়ের সঙ্গে দুই চামচ শসার রস মিশিয়ে ১০-২০ মিনিট মুখে লাগিয়ে রাখুন। এরপর পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক কোমল ও সতেজ থাকবে।
এক চামচ বেসনের সঙ্গে পরিমাণমতো গোলাপজল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। ত্বকে লাগিয়ে শুকানো পর্যন্ত রাখুন। এটি অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং পোরস পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করবে।
রোজায় ঠোঁট শুষ্ক হয়ে যাওয়া বা ফেটে যাওয়ার সমস্যা কমাতে অল্প দুধের সরের সঙ্গে এক ফোঁটা গোলাপজল মিশিয়ে ব্যবহার করুন। এ মিশ্রণটি ইফতারের পর বা ঘুমানোর আগে ঠোঁটে ১০ মিনিট রাখুন। এতে ঠোঁট নরম থাকবে এবং স্বাভাবিক আভা বজায় থাকবে।
